চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচিত সদস্যরা গত ৯০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরতে চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব গত ৯০ দিনে নির্বাচিত সদস্যদের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন।
কার্যবিবরণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘খেলাধুলা ও ক্রীড়া বিভাগ কেন্দ্রীয় ও হলভিত্তিক ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ, ক্রীড়া সরঞ্জাম সংস্কার ও সংগ্রহ, নারী ক্রীড়ার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিভাগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চা বিস্তার এবং ঐতিহাসিক দিবসসমূহ যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দপ্তর বিভাগ শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক ভোগান্তি কমানো, বৈষম্যমূলক নিয়ম বাতিল করা এবং ভর্তি ও একাডেমিক কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। ছাত্রীকল্যাণ বিভাগ নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দাবি উত্থাপন করেছে। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ, একাডেমিক ই-মেইল ও আইটি অবকাঠামোর মানোন্নয়ন, অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগ শিক্ষার্থীদের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও প্রণোদনাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। যোগাযোগ ও আবাসন বিভাগ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা সম্প্রসারণ, ক্যাম্পাস পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, আবাসন সংকট নিরসন, নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশেষ পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিভাগ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগ, আইন ও মানবাধিকার বিভাগ, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিভাগ সাধ্যানুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সাংবাদিক জানতে চান, কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পর নিয়মের কারণে তা কখনো স্থগিত হয়ে গেছে কি না।
এর উত্তরে চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. ইব্রাহিম রনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অফিসিয়াল নিয়ম রয়েছে। এসব নিয়মের কারণে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে কাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য ১০টি বাস চালুর দাবি জানাই, তবে নীতিমালার অভাবে তারা তিনটি বাস চালু করেন। শাটলসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক দাবি আদায়ে দেরি হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী সেবা পাওয়া যায় না।’
প্রশ্নোত্তর পর্বের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি হয়।