নতুন বছরের শুরুতেই শীতের কুয়াশা ভেদ করে ক্যাম্পাসে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে সরস্বতী পূজা। সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতীর পূজা। পঞ্জিকা মতে পঞ্চম তিথিতে আয়োজিত এই উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে ভক্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা। ক্যাম্পাসের সেই রঙিন উৎসবের দিনটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন মো. রাজিউল ইসলাম শান্ত।
‘জ্ঞান ও আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা’ অনামিকা ঘোষ অর্পা, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ সরস্বতী পূজা আমাদের জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনার মাধ্যমে আমরা জ্ঞান ও আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। এ বছর আমাদের পূজাটি ছিল ভীষণ আনন্দময় ও স্মরণীয়। সকালে প্রতিমা স্থাপন ও পূজার মধ্য দিয়ে দিনটির সূচনা হয়। সবার মধ্যে ছিল ভক্তি, শ্রদ্ধা ও উৎসবের আবহ। একসঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া আর পূজার পর বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় দিনটি রঙিন হয়ে ওঠে। এই পূজা আমাদের শেখায় একতা ও জ্ঞানের মূল্য। মা সরস্বতীর আশীর্বাদে আমরা যেন সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে পারি, এটাই প্রত্যাশা।
‘অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় নতুন রূপ’ পংকজ সাহা, কৃষি অনুষদ, ২য় বর্ষ আজকের দিনটি গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অনন্য আবহে কেটেছে। ভোরের কুয়াশা মোড়ানো প্রকৃতি আর সবার মনে বাসন্তী রঙের ছোঁয়ায় পুরো ক্যাম্পাস যেন নতুন রূপ ধারণ করেছিল। সকাল ৮টায় প্রতিমা স্থাপনের মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়। ভক্তিভরে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে সবার মনে ছিল একটাই প্রার্থনা, বিদ্যার আলোয় যেন ঘুচে যায় সব অন্ধকার। বাসন্তী রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে এক টুকরো আনন্দমেলায় পরিণত করেছিল। এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবই প্রমাণ করে দেয় যে সৌন্দর্য সবার তরে।
‘স্মৃতির পাতায় অমলিন এক মায়াবী অনুভব’ শ্রাবণী সরকার, আইন বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ সরস্বতী পূজার দিনটি ছিল এক অপার্থিব মায়ায় ঘেরা। সকালের সোনাঝরা নরম রোদে পুরো ক্যাম্পাস যেন এক শান্ত ও নির্মল স্নিগ্ধতায় ভরে ওঠে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে বাসন্তী শাড়িতে সেজে দেবীর চরণে মাথা নত করে প্রার্থনা করেছি পরম ভক্তিতে। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার সেই বিশেষ মুহূর্তে মনে হচ্ছিল চারপাশের সময়টা যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। মনের সব অস্থিরতা পেছনে ফেলে সেদিন কেবল হৃদয়ে ধারণ করতে চেয়েছি শুভ্র জ্ঞানের আলো। আসলে এই পূজা আমার কাছে নিছক কোনো উৎসব নয়, বরং এটি ছিল নিজের ভেতরে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এক পরম মুহূর্ত। দিনটি শেষ হলেও স্মৃতির ক্যানভাসে তা বাসন্তী রঙের মতোই উজ্জ্বল হয়ে আজীবন অমলিন থাকবে
‘ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন’ প্রান্ত সাহা, ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস অনুষদ, ২য় বর্ষ পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝেই অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো সরস্বতী পূজা। একজন সাধারণ সনাতনী শিক্ষার্থী হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা ঘটেছে। সকালে উপবাস থেকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে দিন শুরু হলেও মূল আকর্ষণ ছিল বিকেলের সাংস্কৃতিক পর্ব। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচের দৃশ্যটি উৎসবে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। এই আয়োজন আমাদের মাঝে বিশেষ ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করেছে, যা আমাদের সামনের পথচলাকে আরও মসৃণ করবে।
কেকে/এমএফ