দুই দশক পর ফেনীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শহরের ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিকাল ৪টার দিকে তিনি বক্তব্য দেবেন। সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে নেতাকর্মীরা কেউ দলবেঁধে আসছেন, কেউ আবার সকাল থেকেই মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনী আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মহাসমাবেশের আশপাশ ছেয়ে গেছে ব্যানার ও ফেস্টুনে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতিও বাড়ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিকাল ৪টায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। ফেনী সফর শেষে কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকে সভাপতি মনির আহমেদ জানান, প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ফেনীর সমাবেশে যোগদান করবেন। সমাবেশে যোগদান করতে এসে দেখা গেছে, লাখ লাখ মানুষ সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিয়েছে ফেনী জেলা বিএনপি। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের মাঝে বিনামূল্যে খাবার ও পানি বিতরণের কর্মসূচি রাখা হয়েছে। মানুষ যেন পানির তৃষ্ণায় কষ্ট না পায়, সেই জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন বলেন, “ছাত্রদলের অভিভাবক ও আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আসবেন শুনে থেকে ছাত্রদল ব্যাপক পরিমাণে ছাত্রদের মধ্যে কাজ করেছে। সমাবেশে ছাত্রদলের সর্বোচ্চ উপস্থিতি প্রমাণ করবে যে তারেক রহমানকে ফেনীর মানুষ হৃদয় থেকে ভালোবাসেন।”
ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এস.এম. কায়সার এলিন বলেন, “প্রিয় নেতা আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার আগে আমরা যখন কেন্দ্র থেকে খবর পাই, তখন থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।”
প্রায় ২০ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার পৈত্রিক নিবাস ফেনীতে নানার বাড়ি আগমন উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য। ফেনীর সমাবেশ মহাসমাবেশে পরিণত হবে।
ফেনী জেলা যুবদল নেতা মায়ন পাটোয়ারী বলেন, “ফেনীর মেয়ে খালেদা গর্ব মোদের আলাদা" এই স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আসার খবর শুনে থেকে সবার চোখ থেকে ঘুম চলে গেছে। কিভাবে সমাবেশ সফল করা যায় সেই প্রস্তুতি চলছে। আজকের মহাসমাবেশ ইতিহাস রচনা করবে।”
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। সমাবেশ স্থলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মঞ্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর ১৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, মহাসমাবেশ উপলক্ষে ফেনীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।
কেকে/এলএ