রাত পোহালেই দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শুরু হচ্ছে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। আগামীকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শুরু হয়ে টানা তিন দিন চলবে এ পরীক্ষা। রেকর্ড সংখ্যক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা নিয়েছে নানা প্রস্তুতি।
ভর্তিচ্ছু্ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে স্টল স্থাপন করেছে। যেগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, বিভিন্ন ক্লাব ও জেলা সমিতিগুলো সহযোগিতা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ বাস সেবারও ব্যবস্থা করেছে।
শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের জেলা, ডিপার্টমেন্ট ও সংগঠনকে ফুটিয়ে তুলতে নানা উদ্যেগ হাতে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোর সামনে শিক্ষার্থীরা আল্পনার কাজ করছে। অনেকে তাদের মনের মতো করে স্টল সাজাচ্ছেন। হল ও মেসের শিক্ষার্থীরা নিজের থাকার জায়গা অন্যকে ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে তারা বিরক্ত হচ্ছে না, বরং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নাঈম ইসলাম বলেন, ‘এবার রেকর্ড পরিমাণ ভর্তি পরীক্ষার্থী। নিজের এলাকা থেকে ছোট ভাই-বোনেরা আসছে। তাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। তিন-চার দিন হয়তো নিজের কষ্ট হবে। কিন্তু পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভালোভাবে থাকতে পারুক- এটাই চাওয়া। আমরা চাই, তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে যাক। তারা আমাদের অতিথি, তারা ভালো সেবা পেলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই সুনাম করবে।’
বগুড়া হতে আসা মো. শিহাব উদ্দিন নামের এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলেন, ‘বেশ রাস্তা ভ্রমণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির উদ্দেশ্য ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাই আপুরা বেশ আন্তরিক। যেকোনো বিষয়ে তথ্য চাইলে তারা সুন্দরভাবে সাড়া দিয়েছেন। আমি জিয়া হলে উঠেছি। সেখানে এলাকার এক ভাই থাকার ব্যবস্থা করেছেন। আরো অনেকেই আসবে ভাই হয়তো অন্য কোথাও থাকবেন। শীতের জন্য প্রয়োজনীয় লেপ কাঁথাও ব্যবস্থা করে রেখেছেন। এমন সহযোগিতা সত্যি অনেক প্রশংসনীয়।’
জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা ২৬-২৮ জানুয়ারি তিন দিন অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ১ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরিতে ৯৪ হাজারেরও অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বেশ কিছু উদ্যেগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে লক্ষ্যে নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসের সকল গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খাবার হোটেল ও দোকানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যেকোন জরুরি স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাবিপ্রবি মেডিকেল সেন্টার ও অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন ডাক্তারসহ ফাস্ট এইড মেডিসিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য প্রতিটি একাডেমিক ভবনের সামনে বসার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেয়ে পরীক্ষার্থী ও মহিলা অভিভাবকদের জন্য ছাত্রী হল ও টিএসসিতে ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছেলে পরীক্ষার্থী ও পুরুষ অভিভাবকদের জন্য ছাত্র হল ও মসজিদে ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসুস্থ/পঙ্গু/প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার জন্য রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সমন্বয়ে টিম কাজ করবে। প্রতিটি একাডেমিক ভবনের সামনে সিট প্ল্যানসহ বিস্তারিত রোডম্যাপ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেকে/এমএ