ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকানে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া (সহকারী প্রক্টর) এবং মিসেস ফাতেমা বিনতে মুস্তফা (ভারপ্রাপ্ত এস্টেট ম্যানেজার)। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার রাতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আপনার চাঁদাবাজদের থামান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আর কোনো চাঁদাবাজি দেখতে চাই না। অন্যথায় ছাত্র-জনতা এদের বিতাড়িত করবে।’
তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে বড় পর্দায় ছাত্রদলের কথিত চাঁদাবাজির একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করে ডাকসু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, সদস্য মো. শাহিনুর রহমানসহ হল সংসদের নেতারা।
এদিকে রোববার বেলা ১১টায় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। ছাত্রদলের দাবি, বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিরাই প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। সিন্ডিকেটের বাইরের দোকানগুলো ভাঙচুর ও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, দেড় মাস আগের একটি পুরোনো ভিডিও কাটছাঁট করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মব তৈরির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটিকে বিতর্কিত করতেই এই পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। যদি আজ রাত ৮টার মধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ সময় ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কেকে/এমএফ