দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মেয়েকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসে হৃদয়বিদারকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন এক বাবা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন স্ট্রোক করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হাবিপ্রবির ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় শেষ শিফটে মেয়ে অনন্যাকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সময় স্ট্রোক করেন বাবা আশরাফ আলী (৬২)। পরে হাবিপ্রবি রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স করে দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আশরাফ আলী পঞ্চগড়ের বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
সোমবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে তিনি হাবিপ্রবিতে আসেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভবনে মেয়েকে পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ ঘামতে শুরু করেন তিনি। তারপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেড ক্রিসেন্টের ফার্স্ট এইড টিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে দিনাজপুর মেডিকেল এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে পঞ্চগড় নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও সেখানে গেছেন।
হাবিপ্রবির প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামছুজ্জোহা বলেন, ‘আমরা জানতে পারি, বিকালের শিফটে পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্রামরত একজন অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শরীর ঘামতে থাকে। তখন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক মনে হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আমরা পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা শেষ হলে তার বাবার মৃত্যুর সংবাদ তাকে জানাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স করে লাশ পঞ্চগড়ে পাঠিয়ে দেই।’
কেকে/এমএ