রাজশাহীতে ১২ বছর বয়সে কিশোরীকে ধর্ষণের ফলে গর্ভধারণ ও সন্তানের জন্ম দেয়ার ঘটনায় তার সৎ বাবাকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযুক্ত আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন।
জানা যায়, পিবিআই রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের ওই কিশোরীর মামলায় তদন্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে। তদন্তের পরই বিষয়টির নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, কিশোরীকে প্রথম ধর্ষণের দায় সৎ বাবার ওপরেই ধরেছিল স্থানীয়রা। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুর বাবা হিসেবে মামার সঙ্গে মিল না পাওয়ায় তদন্ত গভীর করে পিবিআই। এরপর পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষা করালে দেখা যায়, শিশুর পিতৃত্ব সৎ বাবার ডিএনএ’র সঙ্গে মিলছে।
পিবিআইয়ের তদন্তে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে কিশোরী রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় নানাবাড়িতে থাকাকালীন নিজ মামার হাতে ধারাবাহিক ধর্ষণের শিকার হয়। সেই সময়ে গ্রাম্য লোকজন ধারণা করে- মেয়েটি মাত্র মামার ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হয়েছে এবং ২০২২সালের ২২ নভেম্বর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ৭ লাখ টাকা দানমোহর দিয়ে বিয়েও দেন তাকে মামার সঙ্গে।
তবে, মেয়েটি সেই বিয়ে মানতে পারেনি ও আত্মগোপন করে। পরে তার মা তাকে রাজশাহী শহরের ভাড়া বাসায় আনে, যেখানে সৎ বাবার দ্বারা পুনরায় ধর্ষণের শিকার হয়ে সে ২০২৩ সালের ৩ মার্চ এক পুত্রসন্তান জন্ম দেয়।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলার তদন্তে প্রথমে শিশুর বাবা হিসেবে পিতৃত্ব শনাক্ত না হওয়ায় পুনরায় কিশোরীর অবস্থান ও সময়কাল যাচাই করা হয়েছে। কিশোরীর মুখে স্পষ্ট হয়েছে, মায়ের ভাড়া বাসায় থাকার সময় রাতে একই ঘরে ঘুমিয়ে সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।’
গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজশাহী নগরের মুক্তমঞ্চ এলাকা থেকে অভিযুক্ত সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পর দিন তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
জালাল উদ্দিন জানান, কিশোরী আদালতে জানিয়েছে তার মামাও তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছিল। মামা বর্তমানে জামিনে আছে। পিবিআই দুইজনকেই অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেকে/এমএ