পোস্টার, উচ্চশব্দের মাইকিং ও শোডাউন ছাড়াই নির্বাচনি প্রচারণার এক নতুন মডেল সামনে আনছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে কেন্দ্র করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনি কৌশল ও অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাত্র দেড় দিনের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। অনেক ভোটারই এসেছেন তাদের সন্তান বা আত্মীয়ের অনুরোধে। কেউ বলেছেন, ‘আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে’, কেউবা জানিয়েছেন, ‘আমেরিকায় থাকা মেয়ে ফোন করে বলেছে সিগনেচারটা দিয়ে আসতে।’
তিনি লেখেন, এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছেন—রাজনীতির মূল শক্তি পোস্টার বা মাইকিং নয়, বরং মানুষের আস্থা।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শহরজুড়ে পোস্টারের ছড়াছড়ি দেখে তিনি সচেতনভাবেই ভিন্ন পথ বেছে নেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পোস্টারের জঞ্জাল ও উচ্চশব্দের মাইকিং তাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি পোস্টার টানানো বা উচ্চ শব্দে মাইকিং না করার সিদ্ধান্ত নেন।
এ সিদ্ধান্তে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করেন—পোস্টার না থাকলে মানুষ কীভাবে জানবে তিনি নির্বাচন করছেন? সেই প্রশ্নের উত্তর হিসেবেই আসে ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’।
তাসনিম জারা বলেন, মানুষ ভোট দেয় বিশ্বাস থেকে, বিরক্তি থেকে নয়। পরিচিত কারও আন্তরিক ফোনকল বা ব্যক্তিগত আলোচনাই হাজার পোস্টারের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। যারা মিছিল বা স্লোগানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তন চান—এই ক্যাম্পেইন মূলত তাদের জন্যই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এমন একটি প্রচারণা মডেল, যেখানে স্লোগান ও শোডাউনের পরিবর্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি প্রমাণ করা যায় যে কোটি টাকা খরচ, ভাড়া করা লোকের শোডাউন কিংবা শব্দদূষণ ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে সফল হতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন আরও অনেক যোগ্য মানুষ—যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই, কিন্তু আছে সততা ও সক্ষমতা।
কেকে/ আরআই