বরিশাল জেলার উজিরপুর সন্ধ্যা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন জনপদ। এ উপজেলার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে আছে লোকঐতিহ্যের নানা উপকরণ। সংগ্রহের অভাবে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক আঞ্চলিক ভাষার প্রবাদ, প্রচলিত কথা হারিয়ে যাচ্ছে। যা সংগ্রহ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে ‘আমরা উজিরপুরের সন্তান (আউস)’ একটি সোশাল মিডিয়া গ্রুপ।
উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গাববাড়ি হাওলাদার বাড়ি থেকে সংগৃহীত একটি চমৎকার লোককথা আজকে উল্লেখ করা হচ্ছে। লোককথাটি আমি (সংগ্রাহক) আমার ফুফুর মুখ থেকে শুনেছি। আমার ফুফা ছিলেন পুলিশের অফিসার (দারোগা)। দারোগা ফুফা ছুটিতে বাড়িতে এলে আমরা বেড়াতে যেতাম। আমাদের বাড়ি থেকে ফুফুদের বাড়ি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার।
ফুফু বাড়িতে এক দিন খেতে বসেছি। ফুফু ভাত দিয়েছেন। সাথে আলু তরকারি। কোনো মাছ দেখলাম না আলু তরকারিতে। কিন্তু গন্ধ পাচ্ছি ইলিশ মাছের। ভাবছি- ফুফু মনে হয় এ বেলায় ইলিশ মাছ দেবে না। বললাম- ‘ফুফু আগে ইলশা মাছ দাও।’ ফুফু বললেন- ‘ইলশা মাছ নেই- ইলশা মাছের হুররা আর আলুডাই আছে। একটু মুহে দিয়া দ্যাখ- মজা পাবি। ইলশা মাছের ঘেরান দিয়াই ভাত খাওয়া যায় এক গাবলা।’
আমি ইলিশ মাছ ছাড়া তরকারি ও ঝোল দিয়েই খেয়ে উঠলাম। তবে সত্যিই ঘ্রাণ পেলাম ইলিশ মাছের। তখন ফুফু বলল- ‘হোন- মোগো দ্যাশে একটা কথা আছে’-
‘ঘেরান নিবি ইলিশের
দূরে থাকপি পুলিশের।’
আমি হেসে বললাম- ‘আরে তোমার জামাইও তো পুলিশ। পুলিশের বদনাম হরছো?’ ফুফু বলল- ‘এই জন্যই তো কইতাছি। পুলিশের গোনে দূরে থাকপি।’ এ বচনটির ঘেরান=ঘ্রাণ, নিবি=নেওয়া, থাকপি= থাকবি।
কেকে/ আরআই