জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি মো. মুস্তাফিজুর রহমান সাইফুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইয়াকুব আলী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বালিজুড়ী বাজার হাসপাতাল সড়কের নূরুনাহার মির্জা কাশেম মহিলা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এ হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাদারগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, ইয়াকুব আলী মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী পণ্ডিতপাড়া এলাকার খাদ্য ব্যবসায়ী আশরাফ হাজীর ছেলে।২০২৫ সালের ১৪ জুলাই এক ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সে পুনরায় চাঁদাবাজি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে।
গত বছরের ১০ অক্টোবর ছাত্রদলের নেতা ফারুকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ইয়াকুব আলী ও তার সহযোগীরা ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফারুক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এসময় ফারুক দৌড়ে আত্মরক্ষা করে।
খবর পেয়ে ফারুকের ভাই ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইয়াকুব আলী ও তার সহযোগীরা দেশিয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে ইয়াকুবের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে বিপ্লবের বুকে আঘাত করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হাবিবের পায়ে ও হাঁটুর ওপর ছুরি মারে ইয়াকুব। এ সময় ফারুককেও লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে দেশিয় অস্ত্র হাতে নিয়ে অতর্কিতভাবে সাংবাদিকের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াকুব আলীর বাবা আশরাফ হাজী বলেন, ‘আমার ছেলে আমাদের কথা মানে না। আপনারা ওকে পুলিশে ধরিয়ে দিন। আমি ওর সাথে পারি না।’
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘ইয়াকুবের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/বি