ডিজিটালাইজেশনের যুগেও সনাতন প্রক্রিয়ায় চলছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এখনো সনাতন পদ্ধতিতে ফরম পূরণ, পরীক্ষা ফি জমা ও হলের সাইন নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি ও পরীক্ষা ফি জমা দিতে শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় শুধুমাত্র একটি রশিদের জন্য। এরপর হাতে লিখে ফরম পূরণ করতে হয়, যেখানে ভুল হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।
বিশেষ করে হলের সাইন নেওয়ার প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় হল প্রভোস্টরা অতিরিক্ত একাডেমিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় তাদের পাওয়া যায় না। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও দুর্বিষহ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই যেসব কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা সম্ভব, সেগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও গোবিপ্রবি অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে।
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে যেখানে প্রায় সবকিছুই ডিজিটালাইজড, সেখানে পরীক্ষা ফি জমা ও ফরম পূরণ প্রক্রিয়ায় এতটা ভোগান্তি অযৌক্তিক। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ভোগান্তির শিকার। একটি অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে একটি স্টুডেন্ট পোর্টাল থাকলে আমরা সহজেই এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারতাম। এ বিষয়ে খুব দ্রুত প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখর বলেন, “এ বিষয়ে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, জুলাই মাসের মধ্যেই আমরা সব প্রক্রিয়াকে অনলাইনের আওতায় আনতে পারব।”
কেকে/ আরআই