কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪২ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৩৩ জন।
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক এই পোস্টাল ভোট এককভাবে নির্বাচনে বড় কোনো ব্যবধান তৈরি বা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারবে না। মোট ভোটের বিশাল কাঠামোর তুলনায় এ ভোটের প্রভাব পরিসংখ্যানগতভাবে সীমিতই থাকবে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পোস্টাল ভোটের বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো প্রবাসী ভোটারদের দেশে থাকা পরিবারের ভোট।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী হাজী মো. জসিম উদ্দিন (ধানের শীষ) ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর মোবারক হোসাইন (দাঁড়িপাল্লা)–এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রবাসী ভোটারের সরাসরি একটি ভোট থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব অনেক বেশি। কারণ, প্রবাসী ব্যক্তি সাধারণত পরিবারের কর্তা হওয়ায় দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন। সাধারণভাবে একটি প্রবাসী পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ৮ জন পর্যন্ত হওয়ায়, তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী একাধিক ভোট নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে যেতে পারে।
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রায় প্রতিটি ঘরে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী সদস্য রয়েছেন। তারা ব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না হলেও দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। ফলে প্রবাসীদের সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সুতরাং, পোস্টাল ভোট সংখ্যায় কম হলেও প্রবাসী ভোটারদের পারিবারিক প্রভাব কুমিল্লা-৫ আসনের চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুয়ামুন কবির জানান, বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত পুরুষ ১১ হাজার ৩০২ জন, নারী ১ হাজার ৩১ জন—মোট ১২ হাজার ৩৩৩ জন।
কেকে/এলএ