সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খেত খামার
নবীনগরে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষে নতুন সম্ভাবনা
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীত মৌসুমে কৃষকের মাঠজুড়ে এখন নানা জাতের শাকসবজির সমারোহ। প্রচলিত সবজির পাশাপাশি এবার জেলার নবীনগর উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ। শসার মতো দেখতে এই সবজিটি উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে নতুন এই ফসলকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশের সফল চাষ হয়েছে। উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া স্কোয়াশ চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।

তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেন। বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই প্রথম দফায় ১০ কেজি স্কোয়াশ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ৪৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৩ কেজি স্কোয়াশ উৎপাদন করতে সক্ষম হন।

একইভাবে নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের কৃষক মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। এক বিঘা জমিতে চাষাবাদ বাবদ তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। চাষের ১০০ দিনের মধ্যে তিনি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন।

কৃষক কুদ্দুস মিয়া বলেন, “স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো থাকায় লাভও সন্তোষজনক।”

কৃষাণী মুর্শেদা বেগম জানান, বড়িকান্দি ইউনিয়নের এক কৃষকের সাফল্য দেখে তিনি স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হন। পারিবারিক উদ্যোগে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে এই সবজি আবাদ করেছেন। কম সময়ে ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা বাড়ছে এবং প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে অল্প জায়গা ব্যবহার করেও বাড়তি আয় সম্ভব হচ্ছে।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে এই ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হয়।”

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ ও পতিত জমিতে স্কোয়াশ চাষ করে কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। পরিকল্পিতভাবে স্কোয়াশ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি নবীনগরের একটি লাভজনক সবজি ফসলে পরিণত হবে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নবীনগর   বিদেশি সবজি   স্কোয়াশ   সম্ভাবনা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close