সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      
খেত খামার
তিস্তার বালুচরেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কৃষকদের
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

শীতের সকালের নরম রোদে তিস্তা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলো এখন সবুজে ভরে উঠেছে। একসময় যেখানে ছিল শুধু বালি, ধুলা আর অনিশ্চয়তা, সেখানে আজ কৃষকের ঘামে জন্ম নিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চল এখন জীবনসংগ্রাম আর স্বপ্ন ফেরার গল্প শোনাচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম শেষ হলে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেই ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। প্রথমদিকে এসব চর শুধু বালুময় প্রান্তর মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হয় মানুষের পদচারণা। স্থানীয় কৃষকরা বাঁশের লাঠি হাতে জমি মাপেন, বালুর ওপর টেনে নেন নতুন জীবনের রেখা। এরপর শুরু হয় চাষাবাদ।

বর্তমানে চরজুড়ে দেখা যাচ্ছে ভুট্টার হলুদাভ শিষ, সবুজ মরিচ গাছ, কুমড়ার লতানো ডগা ও বিভিন্ন জাতের শাকসবজি। কোথাও বাদাম, কোথাও আউশ ধানের চারা। উর্বর বালুমাটি ও খোলা পরিবেশে এসব ফসল দ্রুত বেড়ে উঠছে।

শংকরদহ চরের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, “নদীভাঙনে একসময় সব হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন এই চরে চাষ করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ফসল বিক্রি করে সংসার চলছে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাও চালাতে পারছি।”

তবে এই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি। চরাঞ্চল স্থায়ী নয়। উজান থেকে নেমে আসা হঠাৎ ঢল কিংবা অকাল বন্যায় এক রাতেই তলিয়ে যেতে পারে মাসের পর মাসের পরিশ্রম। তাই চাষাবাদের পাশাপাশি কৃষকদের মনে কাজ করে অনিশ্চয়তার শঙ্কা। তবুও জীবন থেমে থাকে না—ঝুঁকি নিয়েই তারা এগিয়ে চলেছে।

চর কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। ফসল তোলা, শাকসবজি পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এতে পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি নারীদের সামাজিক অবস্থানেও পরিবর্তন আসছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত সেচব্যবস্থা, নদীশাসন ও বাঁধ সংস্কার করা গেলে তিস্তার চরাঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সহজ শর্তে ঋণ ও কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।

তিস্তার জেগে ওঠা চর শুধু বালির স্তূপ নয়; এটি মানুষের লড়াই, ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ও আশার প্রতিচ্ছবি। সবুজে মোড়া এই চরগুলো প্রমাণ করছে, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেও মানুষ স্বপ্ন বুনতে জানে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  তিস্তা   কৃষক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close