চলতি শীত মৌসুমে পুঠিয়া উপজেলার শতভাগ কৃষক তীব্র শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলি মাঠে পেঁয়াজ রোপণ ও উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যেন কৃষকরা প্রাণভরে আনন্দে মাতোয়ারা।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) উপজেলার পুঠিয়া, ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা প্রতিটি লাইনে হাতে হাতে পেঁয়াজের চারা নিয়ে সারিবদ্ধভাবে জমিতে রোপণ করছেন।
ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিল এলাকায় দেখা যায়, কেউ খালি গলায় গান গাইছেন, কেউ মাইক বাজিয়ে রোদে নাচছেন, আবার কেউ গান-এর তালে তালে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের এই ভিন্নরূপে পেঁয়াজ রোপণের দৃশ্য বর্তমান শীতকালীন চাষাবাদের এক অনন্য নান্দনিক চিত্র হয়ে উঠেছে।
কৃষকরা জানান, তীব্র শীতে মাঠে কাজ করতে ভালো লাগে না। তবে পারিবারিক আর্থিক চাপে ভোর সকালেই কাদা, মাটি, পানি আর কাঁচি নিয়ে কাজে নামতে হয়।
চাষিদের একটি গ্রুপের প্রধান রকিবুল ইসলাম (ফারুক) বলেন, “আমাদের গ্রুপে ১৪ জন কর্মী আছে। আমরা প্রতিদিন দুই বিঘা করে পেঁয়াজ রোপণ করি। এ বছর প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণের কাজ সম্পন্ন করেছি।”
অন্যদিকে, পুঠিয়া জুড়ে বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি জাতের পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। অনেক কৃষক পুঠিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জাত ‘ঘ-৫৩’ পেঁয়াজ রোপণ করেছেন। চাষিরা জানান, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এই জাতের পেঁয়াজ চাষে বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে উত্তোলিত পেঁয়াজের চার থেকে পাঁচটি হলে এক কেজি হচ্ছে এবং প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন প্রায় ২৫০ গ্রাম।
চাষি মো. মজনু জানান, আমার এক বিঘা জমি থেকে ১০০ মণ পেঁয়াজ উত্তোলন করেছি এবং প্রতি মণ ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ মণ পেঁয়াজ উত্তোলনের আশা করছি, ইনশাআল্লাহ।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, “এবার শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ব্যাপকভাবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এ ছাড়া ৩৩০ জন কৃষককে চারা রোপণের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রান্তিক চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
কেকে/এলএ