ফেনীতে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২ পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্টিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর বিতরণ গ্যাস পাইপ লাইনে জরুরী রক্ষনাবেক্ষন কাজের জন্য ২৪ ঘন্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেন বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ। তবে ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে ৩৬ ঘন্টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে জন সাধারণ।
সোমবার (২ জানুয়ারি) ফেনী শহর ঘুরে দেখা যায় শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, ট্রাংক রোড় থেকে সালাউদ্দিন মোড়, শহীদ মিনার থেকে সদর হাসপাতাল রোডে সিএনজি অটো রিকশা ছিলো অল্প সংখ্যাক।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য স্টার লাইন স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে পাঁচগাছিয়া প্রগতি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন পর্যন্ত ছিলো দীর্ঘ লাইন।
সিএনজি চালক রিপন জানান, সকাল ৮টায় গাড়ী নিয়ে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি দুপুর ১২টা ৫৫মি. এখনও গ্যাস পাইনি। চালক ছোটন জানান, সকাল ৯টা লাইনে থেকেও এখন পর্যন্ত গ্যাস পাই নাই।
রাশেদ নামে এক চালক জানান, ভোর ৫টায় দেবীপুর ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস না পেয়ে এখন পাঁচগাছিয়া প্রগতি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে আসছি এখন পর্যন্ত গ্যাস পাই নাই।
প্রগতি সিএনজি রিফুয়েলিং ম্যানাজার নাজমুল জানান, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় আজ সিএনজির গাড়ীর দীর্ঘ লাইন রয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে চালকদের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।
এতে চালকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের ভাড়া ১০টাকা হলে কিছু চালক জনপ্রতি ২০টাকা করে নিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য রুটেও ভাড়া দ্বিগুণ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওমর ফারুক নামে এক যাত্রী জানান, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শহরে আজ গাড়ী অনেক কম এ অজুহাতে কিছু চালক দ্বিগুন ভাড়া নিতেছে। মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের ভাড়া ১০টাকা এখন ২০টাকা দিয়ে যাচ্ছি।
রহিমা নামে আরেক যাত্রী জানান, সিএনজি কম থাকায় মহিপাল থেকে ট্রাংক রোডের রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা, আজ ৪০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।
বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেনীর গ্যাস স্টেশনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রীড হতে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ ছিল। রবিবার দুপুর থেকে জেলা জুড়ে গ্যাস সরবরাহ সচল রয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কেকে/এমএফ