আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের রাজনীতি। বিশেষ করে দিনাজপুর-৪ (খানসামা ও চিরিরবন্দর) আসনে বড় দুই শক্তির লড়াই এখন আলোচনার তুঙ্গে।
একদিকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান মিয়া, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রচারণায় মাঠ দখলে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, দুইবারের সাবেক চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মোল্লা।
আখতারুজ্জামান মিয়া তিনি বলেন, “এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। দল ও প্রতীক—উভয় দিক থেকেই আমি এগিয়ে থাকব।”
তবে এই আসনে এবার ভিন্ন সমীকরণ নিয়ে হাজির হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লা মনে করেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মানুষ পরিবর্তন চায়। ইতোপূর্বে চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদে দুইবার চেয়ারম্যান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এবার এমপি হিসেবে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান।
তিনি দাবি করেন, বিএনপির কিছু সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে মানুষ বিকল্প খুঁজছে। এই নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সংখ্যালঘু বা সনাতনী ভোটারদের অবস্থান।
সম্প্রতি খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলার অমুসলিম শাখার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। খানসামা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি বাবু নিতাই চন্দ্র দেবনাথ ও সভাপতি বাবু জিবাশীষ রায় জানান, স্থানীয় সনাতনী ভোটাররা এবার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। ৫ আগস্টের পর থেকে অমুসলিম পরিবারগুলোর নিরাপত্তায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা। আফতাব উদ্দিন মোল্লার ১০ বছরের চেয়ারম্যান থাকাকালীন কোনো প্রকার দুর্নীতি বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত না থাকা।
দিনাজপুরের তরুণ কবি ও গবেষক চাষা হাবিব এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থান তরুণদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারা এখন শুধু চাকরি নয়, বরং দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান চায়।”
দিনাজপুর-৪ আসনে একদিকে বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন—সব মিলিয়ে লড়াই হবে দ্বিমুখী ও তীব্র। তরুণদের কর্মসংস্থান, প্রবীণদের চিকিৎসা এবং স্বচ্ছ নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
কেকে/এজে