নরসিংদী জেলায় গত ১৮ মাসে ১৪৭টি খুনসহ ধর্ষণ, ছিনতাই, চুরিসহ জেলার ছয়টি উপজেলাজুড়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শুধু খুনের ঘটনাই ঘটেছে ১০৬টি। এসব ঘটনায় ১৪৫টি হত্যা মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬ জন এবং ২০২৫ সালে বিভিন্ন মাসে অন্তত ৭৪ জন খুন হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও ৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় ৮২৬ বন্দি পালিয়ে যায়। ওই সময় কারাগার থেকে লুট হয় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫ রাউন্ড গুলি। দেড় বছরে ৫৮টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ হাজার ৩৩৬ রাউন্ড গুলি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত ১৮ মাসে জেলায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় দুই হাজার রাউন্ড গুলি। তবে রায়পুরা ও নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল—বিশেষ করে বাঁশগাড়ী ও সায়দাবাদ এলাকায়—অপরাধীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ রাইফেল হাতে সন্ত্রাসীদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গোলাগুলি, হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনের সময় ঘনালেই চরাঞ্চলগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ে।
নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নিবারণ রায় বলেন, “রায়পুরা ও নরসিংদী সদর উপজেলায় অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোট গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক জানান, লুট হওয়া অস্ত্রের অধিকাংশই উদ্ধার করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের আগেই অবশিষ্ট অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
সচেতন মহলের মতে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক ও বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ দমনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
কেকে/ এমএস