ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে রূপগঞ্জে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জামাদিসহ ব্যালট বাক্স। নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের উদ্যোগে ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন ও গণভোট ভিন্ন ও ব্যতিক্রম বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মহড়া ও টহল দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনি সরঞ্জামাদিসহ ব্যালট বাক্স বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জামাদি রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছায়।
এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। একটি সাদা ব্যালট—যা সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি গণভোটের জন্য।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইমদাদুল্লাহ, কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান চন্দন, আপেল প্রতীকের প্রার্থী রেহান আফজাল, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন।
এ আসনে ১২৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪,০৮,৮২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,০৭,৮৪৯ জন, মহিলা ভোটার ২,০০,৯৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, সেনাবাহিনী ও ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত তারা কঠোর অবস্থানে থাকবেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জামাদিসহ ব্যালট বাক্স পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা করছে।”
কেকে/এলএ