আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে সাড়ে ১৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে পৌঁছে দিতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন।
তিনি জানান, গাজীপুরে পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট ৯৪০টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং যেসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, “নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভোটের আগেই প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। এসব সামগ্রী পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা বাহিনী কড়া নজরদারি রাখছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন।
নির্বাচন ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে নির্বাচনি আমেজ সৃষ্টি হয়েছে, তবে প্রশাসন বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এবার গাজীপুরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
কেকে/এলএ