ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নির্বাচনি এলাকা কক্সবাজার-১ বাসিন্দাদের (চকরিয়া-পেকুয়া) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) রাত ১০টায় নিজের ভেরিফাই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নির্বাচনি এলাকা চকরিয়া-পেকুয়াবাসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তার ভেরিফাই ফেসবুকে পোষ্ট করা বক্তব্য হুবুহু তুলে ধরা হলো—
আলহামদুলিল্লাহ।
প্রাণপ্রিয় কক্সবাজার-১ আসনের আপামর জনতা,আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও পৌরসভার প্রতিটি স্তরের সম্মানিত ভোটারবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের লড়াকু নেতাকর্মীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা। আপনাদের অদম্য সাহস, ত্যাগ এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এই বিজয়। এটি কেবল একটি নির্বাচনি ফলাফল নয়; এটি জনগণের স্বাধিকার ও হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক দলিল।
ভোটের এই কঠিন লড়াইয়ে আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি সফল হয়েছি। এই বিজয় শুধু আমার নয়, এটি আমাদের সবার। যারা আমাকে বিশ্বাস করেছেন, পাশে থেকেছেন, দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন এবং মূল্যবান ভোট দিয়ে আস্থা রেখেছেন, প্রতিটি ভোটারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইল।
আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই ঐক্য ও পারস্পরিক বিশ্বাস অটুট থাকুক। বিনয় হোক বিজয়ের অলংকার। বিজয় আমাদের উদ্ধত করে না; বরং দায়বদ্ধ করে তোলে। আসুন, এই মাহেন্দ্রক্ষণে কোনো প্রকার কৃত্রিম উন্মাদনায় না মেতে মহান রবের দরবারে সিজদাবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করি। আমাদের প্রার্থনা হোক- অহংকার যেন আমাদের স্পর্শ না করে, ক্ষমতা যেন আমাদের মোহাচ্ছন্ন না করে; বরং জনসেবার একনিষ্ঠ মানসিকতাই হোক আমাদের চারিত্রিক ভূষণ।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অধ্যায় আজ সমাপ্ত। এখন সময় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রদর্শিত রাজনৈতিক সৌজন্য ও অভিনন্দন বার্তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। রাজনীতির ময়দানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যের এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকুক, এটাই আমাদের একান্ত কামনা।
১৯৭১ সালের অবিনাশী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পবিত্র রক্ত ও আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। সেই অমর শহীদদের স্বপ্নের ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মতাদর্শিক ভিন্নতা থাকবে, সুস্থ বিতর্ক থাকবে, কিন্তু দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা হবো এক ও অবিভাজ্য। গণতান্ত্রিক এই নতুন পদযাত্রায় যারা শ্রম, মেধা ও সাহস দিয়ে পাশে ছিলেন, আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ভালোবাসা।
কেকে/বি