মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
উত্তরে বিএনপির ভরাডুবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম আপডেট: ১৪.০২.২০২৬ ১১:৫০ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। এই অঞ্চলে দলটির ভরাডুবি হয়েছে। বিশেষ করে রংপুরের ছয়টি আসনের সব কয়টিতে পরাজিত হয়েছে। এ অঞ্চলে এবার প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ১১ দলীয় জামায়াত জোট। পাঁচটি আসনে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়ে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর রংপুরের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন শক্তির উত্থান নিশ্চিত করেছে। 

এ ছাড়াও কুড়িগ্রামের ৪টি ও নীলফামারির ৪টিতেই এবং গাইবান্ধার ৫টির মধ্যে ৪টি আসনেই জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছে। 

বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সরাসরি লড়াইয়ে এমন জয়ে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোয় এবার ১১ দলীয় জামায়াত জোটের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটগত সীমাবদ্ধতা এবং তরুণ ভোটারদের কাছে প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থতা বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারণ। অন্যদিকে জামায়াত জোট স্থানীয় নেটওয়ার্ক, জোট সমীকরণ ও শক্তিশালী প্রচার কৌশল কাজে লাগাতে পেরেছে। 

আবার  কেউ কেউ মনে করছেন, লাঙ্গল প্রতীক ও এরশাদের প্রতি দুর্বলতা বিবেচনায় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে জি এম কাদেরের জাপা এতদিন অবস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু জাপা পর্যুদস্ত হয়ে সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে।

অভিভাবকহীন বিএনপির দলীয় কোন্দল, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও তলে তলে জামায়াত ইসলামের সঙ্গে আঁতাতের কারণে এমন পরাজয় হয়েছে বলে তৃণমূলের মূল্যায়ন।

রংপুরে জামায়াতের জয়জয়াকার :

রংপুরে বিএনপির ভরাডুবির বিপরীতে জয়জয়াকার হয়েছে জামায়াতের। ভোটে দলটির জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আকতার হোসেন জয়ী হয়েছেন জেলার অপর আসনে। বিএনপির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে ছয় আসনেই দ্বিতীয় হয়েছেন।

রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশনে ও সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন ধানের শীষে ৬৯ হজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজাহারুল ইসলাম ধানের শীষে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষে ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়েছেন।

রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। 

রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আকতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।

রংপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াতের নুরুল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল বিএনপির জন্য শুধু নির্বাচনি পরাজয় নয়-এটি অস্তিত্ব সংকটের বার্তা। রংপুরে যেখানে একসময় দলটির নামেই ভোট পড়ত, সেখানেই এবার ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোটের রায়ে কার্যত ‘রেড কার্ড’ দেখিয়েছেন ভোটাররা।

কুড়িগ্রামে ১১ দলীয় জোটের ভূমিধস জয় : 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে জেলার চারটির মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি প্রতিটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও কোনো আসনে জয় পায়নি।

কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) :

জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর-ফুলবাড়ী-রাজারহাট)

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির ড. আতিক মুজাহিদ (আতিকুর রহমান) শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসেন কায়কোবাদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) : 

জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট।

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর) :

জামায়াত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট।

নীলফামারীর ৪টি আসনেই বিএনপি পরাজিত :

নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। 

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ। নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।

গাইবান্ধায় ৫টির চারটিতে জামায়াত :

গাইবান্ধার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে জামায়াত আর একটিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। গাইবান্ধার-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিম ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩০ ভোট পেয়ে জয়লাভ হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮৯০ ভোট। গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম কায়সার ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রহিম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট। গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।

ট্রমা আক্রান্ত বিএনপি নেতাকর্মী :

তৃণমূল বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির এই পরাজয় তারা এখনো পর্যন্ত মেনে নিতে পারছেন না। ট্রমার মধ্যে রয়েছেন তারা। দ্রুত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে কেন্দ্র এমন প্রত্যাশা করছেন তারা।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  উত্তর   বিএনপি   ভরাডুবি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close