বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে যখন অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন কিংবা ভালোবাসা প্রকাশে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চিরকুমার সংঘ’ নামের একটি সংগঠন। দিবসটিকে ঘিরে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘দুষ্টু নারী নিপাত যাক, চিরকুমার মুক্তি পাক’, ‘এক নাম এক দেশ, চিরকুমারের বাংলাদেশ’, ‘তুমি কে? আমি কে? বঞ্চিত, বঞ্চিত’, ‘কেউ পাবে তো, কেউ পাবে না, তা হবে না, তা হবে না’, ‘প্রেমের নামে প্রহসন, চলবে না চলবে না’ ও ‘নষ্ট প্রেমের কাঁথাতে, আগুন জ্বালো একসাথে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মুস্তাকিম হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রেমের বিরুদ্ধে নই। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে প্রেমের নামে যে বাড়াবাড়ি ও অসংযত আচরণ দেখা যায়, তার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি। একজন মানুষের জীবনে একজন সঙ্গীই যথেষ্ট। দিবসটি ভিন্নভাবে উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের ঘোষণা দিচ্ছি।’
সমাবেশে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ প্রীতিলতা রায় বলেন, ‘আমরা কারও ব্যক্তিগত অনুভূতি বা ভালোবাসার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে যে অতিরঞ্জন, প্রতিযোগিতা আর সামাজিক চাপ তৈরি হয়, সেটার বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান। অনেক তরুণ-তরুণী এই দিনটিতে মানসিকভাবে নিজেকে বঞ্চিত মনে করে, যা স্বাস্থ্যকর নয়। আমরা চাই সম্পর্ক হোক সম্মান, দায়বদ্ধতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। ভালোবাসা হোক সাদামাটা ও স্বচ্ছ।’
সহ সভাপতি দিলোয়ার হোসেন বলেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারিকে আমরা ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে পালন করতে চাই। ভালোবাসা শুধু ব্যক্তি নয়, দেশ ও প্রকৃতির প্রতিও হওয়া উচিত। সুন্দরবন রক্ষা করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। তাই এই দিনে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা দিতেই এই আয়োজন।’
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মুস্তাকিম হোসেন, সহ-সভাপতি দিলোয়ার হোসেন, জামিল হাসান মাহফুজ, মো. রিয়াদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রাকিব, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ প্রীতিলতা রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম অহিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রিহাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক উৎস হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারুফসহ অন্যান্য সদস্যরা।
কেকে/এসএএস