কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে রাস্তা পারাপারের সময় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় তুলসী কান্তি রাউত (৭৭) নামের এক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কটিয়াদী পৌর এলাকার ভোগপাড়া মহল্লায় শেষকৃত্যের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
নিহত তুলসী কান্তি রাউত উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের মৃত যতীন্দ্র চন্দ্র রাউতের ছেলে। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন ডেপুটি কমান্ডার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাসা থেকে বের হয়ে বাজারে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের ভোগপাড়া এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি পিকআপ ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খান এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসরাইল মিয়াসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা তুলসী কান্তি রাউতের অসামান্য অবদান ছিল। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ধুলদিয়া রেলসেতু অপারেশন ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষ কমান্ডো অপারেশন।
ভারতের চাকুলিয়া ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে ধুলদিয়া রেলসেতু ও মানিকখালী রেল কালভার্ট ধ্বংস করেছিলেন। এই অপারেশনটি ওই অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর যাতায়াত ও রসদ সরবরাহ ব্যাহত করতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়াও কালিয়াচাপড়া চিনিকল এলাকায় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক সম্মুখযুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তুলসী কান্তি রাউত।
কেকে/এলএ