ফেব্রুয়ারি এলেই বাঙালির চেতনায় জেগে ওঠে ভাষার ইতিহাস, আত্মত্যাগের স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের গভীর বোধ। ভাষার মাস ঘিরে মাতৃভাষার মর্যাদা, শুদ্ধ চর্চা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব নিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন করে ভাবনা প্রকাশ করছেন। গণ বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষার্থীদের অনুভূতি তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী মো. রাজিউল ইসলাম শান্ত।
“বাংলা ভাষা আমাদের চেতনার ভিত্তি”
সুলতানা আক্তার মিতু, বাংলা বিভাগ
‘বাংলা ভাষা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্য ও চেতনার আধার। আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল স্তম্ভ এই ভাষা। ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে অনন্য অধ্যায়, যা ভাষার মর্যাদার পাশাপাশি জাতিসত্তার ভিত্তিও নির্মাণ করেছে। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে, ভাষা কেবল প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি অধিকার, স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রতীক।’
“ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সচেতনতা জরুরি”
জাহিদ হাসান, কৃষি অনুষদ
‘বাংলা ভাষা বাঙালির হৃদস্পন্দন এবং জাতিসত্তার পরিচয় বহন করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই জাতির আত্মপরিচয়ের বিকাশ এবং স্বাধীনতার পথচলা শুরু। তবে বর্তমান সময়ে সর্বত্র বাংলা ভাষার যথার্থ মর্যাদা রক্ষিত হচ্ছে না। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি শব্দের ব্যবহার ভাষার স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন করছে। আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে অন্য ভাষা শেখা জরুরি হলেও মাতৃভাষাকে অবহেলা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা ও গণমাধ্যমে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহারের চর্চা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’
“বাংলা আমার হৃদয়ের ভাষা’’
সানজিদা ইসলাম রাখি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ
‘বাংলা আমার মায়ের ভাষা, আমার অনুভূতির ভাষা। এই ভাষাতেই আমি প্রথম কথা বলতে শিখেছি, হাসতে শিখেছি, কাঁদতে শিখেছি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের ভাষাকে দিয়েছে মর্যাদা ও গৌরব। এই ভাষাতেই সাহিত্য রচনা করে বিশ্ব দরবারে বাংলা সাহিত্যকে পরিচিত করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অসংখ্য কবিতা, গান ও গল্পে সমৃদ্ধ বাংলা ভাষা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক। তাই শুদ্ধ ও সুন্দর বাংলার চর্চা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভাষার গুরুত্ব বোঝানো আমাদের দায়িত্ব।’
“বায়ান্নর চেতনা আজও অনুপ্রেরণা”
সাখাওয়াত হোসেন, রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগ
‘ফেব্রুয়ারি এলেই হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতি জাগে। এই মাস মনে করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালের সেই আত্মত্যাগের কথা, যখন আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ অসংখ্য মানুষ ভাষার অধিকার রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা মাতৃভাষায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি। প্রভাতফেরিতে যখন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটি, যার রচয়িতা আব্দুল গফ্ফার চৌধুরী, গাওয়া হয়, তখন আবেগে চোখ ভিজে ওঠে। ভাষাশহিদদের সেই চেতনা ধারণ করেই নতুন প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা।’
কেকে/এলএ