‘মানবজীবন সে তো গঙ্গায় ভাসন্ত বাছাড়ির নাও’ এই পঙক্তিগুলো মানবজীবন ও নদীর গভীর সাদৃশ্যকে তুলে ধরে। ফুটো নৌকার মতো মানুষও দুঃখে তলিয়ে যায়, আবার জোয়ার-ভাটার মতোই জীবনে সুখ-দুঃখের পালাবদল ঘটে। উত্থান-পতন, ভাঙা-গড়া নদী ও জীবন যেন একই প্রবাহের দুই রূপ।
বিশ্বসাহিত্যে এই রূপক চিরন্তন। আদি মহাকাব্য মহাভারত ও রামায়ণ থেকে শুরু করে হোমারের ইলিয়াড ও ওডিসি স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল বিস্তৃত কাহিনিতে নদী গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। ধ্রুপদি সাহিত্যে কালিদাস কিংবা ফিরদৌসির শাহনামা- তেও নদী মানবজীবনের সঙ্গে একাত্ম।
প্রাচীন সভ্যতা যেমন নদীকেন্দ্রিক, তেমনি সাহিত্যও নদীর গতিময়তা থেকে প্রাণ পেয়েছে। বাংলা সাহিত্যেও নদী ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জনপদ নির্মাণে বড় ভূমিকা রেখেছে। তাই আদি নিদর্শন চর্যাপদে নির্বাণের রূপকে নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় জন্মভূমিকে ‘দুগ্ধ-স্রোতরূপী’ জননী হিসেবে কল্পনা করেছেন।
কবিতার পাশাপাশি উপন্যাসেও নদী ও জীবন গভীরভাবে রূপায়িত হয়েছে। মিখাইল শোলোখভ-এর প্রশান্ত দন-এ দন নদীর তীরবর্তী মানুষের সংগ্রাম ও বৈপ্লবিক জীবনের মহাকাব্যিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এভাবেই নদী বিশ্বসাহিত্যে কখনো জননী, কখনো সংগ্রামের প্রতীক, কখনো জীবনের অনন্ত প্রবাহের রূপক হয়ে চিরকাল বহমান।
কেকে/ এমএস