মা—মাত্র এক অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ। অথচ এই একটি শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সব মায়া, মমতা, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অনুভূতি। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও শ্রুতিমধুর শব্দগুলোর একটি হলো ‘মা’।
আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ১০ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস ২০২৬।
মা দিবসের ইতিহাস
মা দিবসের আধুনিক ধারণার সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে আন্না জার্ভিস প্রথমবারের মতো নিজের মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দিবসটি পালন করেন। পরে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি মা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
কেন পালিত হয় বিশ্ব মা দিবস
মা শুধু একজন অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম আশ্রয় ও সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। জন্মের পর থেকে সন্তানের বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও জীবনের প্রতিটি ধাপে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য।
বিশ্ব মা দিবস মূলত মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ। যদিও অনেকেই মনে করেন, মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন নেই; প্রতিদিনই হওয়া উচিত মা’কে ভালোবাসার দিন।
বাংলাদেশে মা দিবস উদযাপন
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক নানা আয়োজন করা হয়। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, কেউ উপহার দেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
অনেকে আবার মা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন, পারিবারিক ভোজ কিংবা কেক কাটার মাধ্যমেও দিনটি উদযাপন করেন।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাই হোক প্রতিদিনের প্রতিশ্রুতি
মনীষীরা বলেন, শুধু একটি দিন নয়—প্রতিদিনের আচরণে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও যত্ন প্রকাশই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় উদযাপন। কারণ সন্তানের জীবনে মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি পুরো পৃথিবীর আরেক নাম।
কেকে/ এমএস