বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা চিরন্তন। সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় বিশ্ব বাবা দিবস। সেই ধারাবাহিকতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস।
বিশ্ব বাবা দিবস এমন একটি দিন, যেদিন সন্তানেরা তাদের বাবার ত্যাগ, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন—সবখানেই আজ উঠে আসছে বাবাকে ঘিরে আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার নানা গল্প।
বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯১০ সালে সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেন। স্ত্রীকে হারানোর পর একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তোলেন উইলিয়াম স্মার্ট। বাবার সেই আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি দিতেই দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবস জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।
ব্যস্ত জীবনের কারণে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানো সম্ভব হয় না। বিশ্ব বাবা দিবস সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ তৈরি করে। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল।
বিশ্ব বাবা দিবসে বাবাকে তার পছন্দের কোনো উপহার দেওয়া, একসঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শুধু একটি ফোন করে ‘ভালোবাসি বাবা’ বলা—এসব ছোট ছোট উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার।
কারণ একজন বাবা সন্তানের সফলতায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান, অথচ নিজের কষ্টের কথা সবচেয়ে কম বলেন। তাই আজকের দিনটি হোক বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন।
কেকে/ এমএস