রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬,
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা      ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত পাঁচ      ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত      রাতের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ১৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      দেশে ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী      জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী      
খেলাধুলা
দলীয় ব্যর্থতায় টি-২০ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ টাইগাররা
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম আপডেট: ২১.০৬.২০২৬ ৬:২১ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজে যে বাংলাদেশকে দেখা গিয়েছিল আত্মবিশ্বাসী ও আগ্রাসী, চট্টগ্রামে টি-২০ সিরিজে সেই দলটিই যেন হারিয়ে ফেলল নিজেদের ছন্দ। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দারুণ বার্তা দেওয়া বাংলাদেশ ২০ ওভারের ক্রিকেটে এসে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই হতাশ করল।

রোববার (২১ জুন) দলীয় ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা। সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ১০৯ রানে থামিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।

উত্তরে ১১তম ওভারের শেষ বলে রিশাদকে বিশাল ছক্কা মেরে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা। আর তাতেই ৫৪ বল আগে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ফেলে সফরকারীরা।

বাংলাদেশকে ১০৯ রানে থামিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভার থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের প্রথম ওভার থেকে জশ ইংলিস ও মিচেল মার্শ তুলে নেন ১৭ রান।

দ্বিতীয় ওভারে নাসুম আহমেদ কিছুটা রানের গতি থামান। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। প্রথম ৬ ওভারে অজিরা ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলে ৫৪ রান। ষষ্ঠ ওভারে ইংলিসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য এনে দেন নাসুম।

ওয়ানডে সিরিজে যে নাহিদ রানার গতির সামনে অস্বস্তিতে ছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা, টি-টোয়েন্টিতে সেই নাহিদকেই বাগে পেয়ে যান কুপার কনোলি ও মিচেল মার্শ। তার প্রথম ওভার থেকেই নেন ২০ রান। বাংলাদেশের কোনো বোলারই অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি থামাতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত ১১তম ওভারের শেষ বলে টিম ডেভিড বিশাল এক ছক্কা মেরে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে। তাতেই ৩ উইকেট হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

অজি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে আগ্রাসী ছিলেন মার্শ। ২৮ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক খেলেন ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস। এছাড়া কনোলি ১৭ ও ইংলিস ১৫ রান করে আউট হন। ডেভিড ৩ বলে ২ ছক্কায় ১২ এবং ম্যাথিউ রেনশ ৬ বলে ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।

স্কোরবোর্ডে লড়াই করার মতো পুঁজি ছিল না বাংলাদেশের। তারপরও বোলারদের বোলিং ছিল অনেকটাই নখদন্তহীন। শরিফুল, নাসুম ও রিশাদ হোসেন নেন একটি করে উইকেট। টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তাসকিন আহমেদ ২ ওভারে খরচ করেন ২৭ রান। কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি।

এদিন তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে স্পেনসার জনসনের অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ বল পেয়ে সাইফ হাসান জোরে ড্রাইভ করেন। বল সোজা বোলারের দিকে ফিরে যায়, জনসনের হাতে হালকা স্পর্শ লেগে তা স্টাম্পে আঘাত করে।

প্রথমে মনে হয়েছিল তানজিদ সময়মতো ক্রিজে পৌঁছে গেছেন। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাট লাইন ছোঁয়ার আগেই স্টাম্প ভেঙে গেছে। দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে ফিরতে হয় তানজিদকে।

এরপর একই ওভারের পঞ্চম বলে স্লো ডেলিভারি করেন জনসন। তার ধীরগতির অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথের বলকে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন সাইফ। তবে টাইমিং ঠিক হয়নি। মিড অফে মিচেল মার্শ সহজ ক্যাচ নিয়ে সাইফকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়ে দেন।

এই দুই উইকেট পতনের পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। এক প্রান্ত আগলে রেখে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখেছেন তাওহীদ।

নুরুল হাসানের সঙ্গে ২৩, রিশাদের সঙ্গে ২৬, শরীফুলের সঙ্গে ২১ এবং নবম উইকেটে তাসকিনের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৩ রানের জুটিতে স্কোরবোর্ডে ১০৯ রান তুলতে পারেন তাওহীদ। ১০৯ রানের মধ্যে তাওহীদ নিজেই খেলেছেন অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস। ৫১ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।

বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল রিশাদই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। তিনি ১৪ বলে করেন ১৬ রান। অতিরিক্ত খাত থেকে ১০ রান না এলে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ রানের নিচেই থাকত।

অনেক দিন পর সুযোগ পাওয়া নুরুল হাসান সোহান ব্যর্থ হয়েছেন। ৮ বলে ৬ রান করেছেন তিনি। এই সিরিজে পুরোপুরি ব্যর্থ হার্ডহিটার ব্যাটার শামীম হোসেন। তিন ম্যাচে তার রান ১, ৭ ও ০। আজ ৬ বলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে ব্যাটারদের ব্যর্থতার পর তাওহীদের দৃঢ়তায় কোনো রকমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করেন। বাঁহাতি স্পিনার নিখিল চৌধুরি নেন ১টি উইকেট।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  দলীয় ব্যর্থতা   টি-২০ সিরিজ   অস্ট্রেলিয়া   হোয়াইটওয়াশ টাইগাররা   বাংলাদেশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেলাধুলা- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close