ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। এমন গুঞ্জনের মধ্যেই তাকে বিক্রি করে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফুটবলার কার্লো গঞ্জালেস।
তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিনিসিয়ুসকে ধরে রাখার চেয়ে মোটা অঙ্কের ট্রান্সফার ফি নিয়ে বিদায় দেওয়াই রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
মার্কার করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিনিসিয়ুসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর। ক্লাবঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, নতুন চুক্তিতে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের সমপরিমাণ বেতন চান ব্রাজিলের সুপারস্টার। তবে রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এখনই সেই দাবি মেনে নিতে রাজি নন।
১৯৭১ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে খেলা গঞ্জাসের ভাষ্য, রিয়ালে যোগ দেওয়ার সময় কিশোর ভিনিসিয়ুসের সবচেয়ে বড় সমর্থকদের একজন ছিলেন তিনি। তার প্রতিভা ও সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মাঠে ও মাঠের বাইরের আচরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই মনে করেন তিনি।
তার মতে, গত মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় বদলি হতে না চেয়ে কোচ জাবি আলোনসোর সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের তর্কে জড়ানোই ছিল একটি বড় মোড়। ওই ঘটনার পর থেকেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর একাংশের সমর্থকদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় ও রেফারিদের সঙ্গে প্রায়ই বিতর্কে জড়ানোর ঘটনাও বাড়তে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি শুধু ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং রিয়াল মাদ্রিদের জন্যও অস্বস্তির কারণ। কারণ, বিশ্বমানের একজন ফুটবলার দলে থাকলেও তিনি নিজের সমর্থকদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন না, ড্রেসিংরুমের পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারছেন না এবং নিয়মিত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন।
এসব কারণেই সাবেক খেলোয়াড় গঞ্জালেসের মত, ভিনিসিয়ুসকে ট্রান্সফার করাই রিয়ালের জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে বার্সেলোনা ম্যাচে জাবি আলোনসোর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক কোনো সমাধান তিনি দেখছেন না।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিনিসিয়ুসের জন্য ক্লাব ছাড়াই হতে পারে একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।
প্রসঙ্গত, কার্লো গঞ্জালেস রিয়ালের হয়ে ৬৪৫ ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ২৯০টি। যার ১৮৬টিই লাল লিগায়। ১৯৭৮ ও ১৯৮২ বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। আশ্চর্যর বিষয় হচ্ছে, ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন আর্জেন্টিনার হয়ে। ১৯৮২ সালে তার ঠিকানা ছিল স্পেন। ২টি উয়েফা কাপ, ৯টি লা লিগা, ৪টি স্প্যানিশ কাপ ও ১টি লিগ কাপ জিতেছেন গঞ্জালেস।
কেকে/এলএ