বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সড়কের নির্মাণকাজে বাধা প্রদান ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বরিশাল নগরীর বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবিএম আওলাদ হোসেন (৫৮)। তবে ছাত্রদলের নেতাদের দাবী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই প্রতিবাদ করতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছেন তারা।
গত রোববার (১ মার্চ) তারিখ সকাল ১০টার দিকে কাজ চলাকালীন আজমাইন সাকিব ১০-১৫ জন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেন।
এ সময় তারা কাজের অংশ হিসেবে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে সাবেক ছাত্রনেতা রেজা শরীফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমাইন সাকিব (২৩) এবং ববি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্তসহ (২৪) অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আওলাদ হোসেন মেসার্স ধারা এন্টারপ্রাইজ, বিল্ডার্স কন্ট্রাক্টর্স অ্যান্ড সাপ্লায়ারের প্রতিনিধি হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১’-এর সামনে আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পান। গত ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্মারক অনুযায়ী তিনি প্রকল্পের কাজ শুরু করেন।
অভিযোগকারী আওলাদ হোসেন বলেন, ‘কাজ চলাকালীন সময়ে আজমাইন সাকিবের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কাজে বাধা প্রদান করে। কারণ জানতে চাইলে তারা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেন।’
অভিযোগ অস্বীকার করে আজমাইন সাকিব বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। চলমান রাস্তার পাথর, বালি ও ইটের মান খারাপ হওয়ায় আমরা তা পরিবর্তনের অনুরোধ জানাই। প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে ঠিকাদার মনু বিএনপির বিভিন্ন নেতার নাম বলে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাজের মান খারাপ হওয়া স্বত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধারা ও আমেনা দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেটের মারফতে বিভিন্ন কাজ করে আসছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
চাঁদা বা আর্থিক লেনদেনের মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান আজমাইন সাকিব।
অভিযোগের আরেক বিবাদী ববির সাবেক ছাত্রনেতা রেজা শরীফ বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না। আমাদের দাবি ছিল, ধারা ও আমেনা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কাজ না পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান রাস্তার কাজসহ সকল উন্নয়ন কাজ যেন সঠিক ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়। কোনো একক গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করবে এটা আমরা মেনে নেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ তুলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি শিক্ষার্থীদের সম্মান ও মর্যাদার ওপর আঘাত ও এ ধরনের অপপ্রচার অনাকাঙ্ক্ষিত।’
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারের প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন। এতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে এবং ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর করাসহ চাঁদাবাজির অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম এবং প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সালের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
কেকে/এসএ