মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খেত খামার
খানসামায় পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা
ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় শীত মৌসুমে পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সরকারি প্রণোদনার সমন্বয়ে স্থানীয় কৃষকেরা এখন মানসম্মত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। 
 
উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর সরিষা পাড়া এলাকার কৃষক তাইজ উদ্দিন এ উদ্যোগের অন্যতম অংশীদার। চলতি শীত মৌসুমে তিনি নিজের জমিতে পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ আবাদ করে এলাকায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী জমি প্রস্তুত, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে তার ক্ষেতের গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। 
 
জানা যায়, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের চাষ শুরু করেছেন তাইজ উদ্দিন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে ১৬০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার, প্রয়োজনীয় বালাইনাশক ও বীজ সংরক্ষণ পাত্র দেওয়া হয়েছে। এসব উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে তিনি নিজের জমিতে বীজ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করেন। 
 
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খানসামা উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০ জন কৃষককে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত প্রতি একর জমিতে ২০০-২৪০ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন সম্ভব। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত ফলন নির্ধারিত হবে। তবুও, কৃষি বিভাগ ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী। 

তাইজ উদ্দিন জানান, সরকারি সহায়তা ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি এবার উন্নত পদ্ধতিতে পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আগে তিনি শুধু পেঁয়াজ কন্দ চাষ করতেন, তবে এবার বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছেন। এতে লাভের সম্ভাবনাও বেশি দেখছেন তিনি। 

তাইজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ৩৩ শতাংশ জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০,০০০-৬০,০০০ টাকা। জমিতে বর্তমানে গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় আমি আশাবাদী যে, প্রায় ১২০-১৫০ কেজি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হতে পারে। এসব বীজ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আমি প্রায় ২-৩ লাখ টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করি।’ 
 
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ. ম. জাহেদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মানসম্মত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে, যাতে কৃষকেরা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ভালো ফলন পেতে পারেন।’

এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে উপজেলার আরও অনেক কৃষক পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 
 
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং মানসম্মত বীজ উৎপাদনে উৎসাহিত করা। পেঁয়াজ কন্দ থেকে বীজ উৎপাদনের এই কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় কৃষি খাত শক্তিশালী হবে এবং কৃষকের আয়ও বাড়বে।’
 
কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  খানসামা   পেঁয়াজ কন্দ   বীজ উৎপাদন   নতুন সম্ভাবনা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close