ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে খেলতে আজ প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই সিরিজটি টাইগারদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার হতাশা, শূন্যতা ভুলে সামনে তাকিয়ে বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামছে টাইগাররা। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য এই সিরিজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য।
বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে দরকার হবে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে থাকা। এই সিরিজে জিততে পারলে বর্তমানে দশে থাকা বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে উঠবে ৯ম স্থানে। বাংলাদেশ তাই খুব করেই চাইবে এই সিরিজ জিতে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিতে। সামনে পাকিস্তান দল, যারা কিনা র্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে ৪র্থ স্থানে।
বাংলাদেশ সফরে ৬ অনভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে স্কোয়াড সাজিয়েছে পাকিস্তান। যেখানে রয়েছেন মাত্রই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাতিয়ে আসা সাহিবজাদা ফারহানও। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দল গঠনের জন্য তরুণদের বাজিয়ে দেখতে চায় পাকিস্তান। যে কারণেই দলে এতবেশি অদলবদল। একাদশেও ৩-৪ জন অভিষিক্ত ক্রিকেটার নিয়ে মাঠে নামবে পাকিস্তান। যেখানে টপ অর্ডারে দুই ওপেনার এবং তিনে খেলা ব্যাটারও রয়েছে, যাদের নাম ম্যাচের আগের দিনই জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ওপেনিংয়ে সাহিবজাদা ফারহানের সাথে মাজ সাদাকাত এবং তিনে শ্যামল হুসাইনকে খেলাবে পাকিস্তান।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অভিজ্ঞদের উপরই আস্থা রাখছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের ফর্মটা অত ভালো নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
এর আগে শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন বেশি বেশি টি-টোয়েন্টি খেলার ফলে ওয়ানডেতে অনেক ম্যাচে ৫০ ওভার খেলতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে টাইগার ব্যাটারদের। বড় ইনিংস খেলার প্রবণতাও কমে যাচ্ছে। পাকিস্তান সিরিজ তাই বড় চ্যালেঞ্জ টাইগার ব্যাটারদের জন্য।
এমন কঠিন সময়ে বড় চ্যালেঞ্জটা ব্যাটারদের জন্য বড় সুযোগও। নিজেরা ফর্মে ফিরে একাদশে জায়গাও পোক্ত করার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। দলের ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ। লিটন দাসকে দলে ফেরানো হয়েছে মিডল অর্ডারে খেলানোর জন্য। সব ঠিক থাকলে পাঁচে খেলছেন লিটন। ওপেনিংয়ে জুটি গড়ার অপেক্ষায় সাইফ হাসান এবং সৌম্য সরকার। সৌম্যকে না খেলালে ওপেনিংয়ে দেখা যাবে তানজিদ হাসান তামিমকে। তিনে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং চারে তাওহিদ হৃদয় প্রায় নিশ্চিত। পাঁচে লিটনের খেলাও নিশ্চিত। ছয় নম্বরে দেখা যেতে পারে দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডে দলে ফেরা আফিফ হোসেন ধ্রুবকে। সাতে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
বোলিং ইউনিটে রিশাদ হোসেন নিশ্চিত। সাথে তিন পেসার খেলালে একাদশে জায়গা হবে না তানভীর ইসলামের। তবে মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় দুই পেসারের সাথে দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনারের পথেও হাঁটতে পারে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। সেক্ষেত্রে দুই পেসার তাসকিন আহমেদ এবং মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে একাদশে দেখা যাবে তানভীর ইসলাম এবং রিশাদকে।
পাকিস্তানের বোলারদের সামলানোর বড় চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে। সেই বড় পরীক্ষা নেবেন পাকিস্তানের পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফাহিম আশরাফ, আবরার আহমেদকে। বিপিএল খেলার কারণে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটারের জন্যই মিরপুর বেশ চেনা আঙিনা। ফলে সেই ফায়দাটা লুটতে মুখিয়ে থাকবেন তারাও। দুই দলের লড়াইটা তাই জমজমাটই হওয়ার কথা।
একনজরে দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ :
বাংলাদেশ : সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার/তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তান : সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শ্যামল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), সালমান আলী আঘা, হুসাইন তালাত, আবদুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আকরাম/আবরার আহমেদ।
কেকে/এলএ