শহরের ক্রমবর্ধমান মশা নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেংগু নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন শুরু করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে এবং কীটতত্ত্ববিদ ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কীটনিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় এডিস মশার সম্ভাব্য জন্মস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, র্যালি আয়োজন, লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার ও গণযোগাযোগ কার্যক্রম চালানো হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রতি শনিবার বিশেষ মশা নিধন অভিযান পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে আনুযায়ী আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য এ ক্যাম্পেইন শুরু করছি।’
ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উল্লিখিত ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে মার্চ-মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক মোট ৫৩টি ক্যাম্পেইন চালানো হবে।
বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকাসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এডিস মশা মূলত বাসাবাড়ি ও আঙিনায় পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বাসাবাড়ি, অফিস, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্রে জমা পানি এডিস মশার অন্যতম প্রধান উৎপত্তিস্থল। এবার সময়ের আগেই ডেংগু নিয়ন্ত্রণে মশার এসব উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে আগাম অভিযান শুরু করছে ডিএনসিসি।
কেকে/এমএ