বাংলাদেশ বার কাউন্সিল-এর আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) আইন বিভাগ।
জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই আইন বিভাগের ৫ম ব্যাচের ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সারা দেশ থেকে মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৬টি ব্যাচ থেকে এখন পর্যন্ত ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী বার কাউন্সিলের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা একটি নবীন বিভাগের জন্য অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন আইন বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া। ধারাবাহিক এই সাফল্য বিভাগটির একাডেমিক শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভাগটি জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইন পেশা পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশা শুরু করতে তাঁদের ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর একজন প্রার্থীকে প্রথমে একজন সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে ছয় মাসের পিউপিলেজ সম্পন্ন করতে হয়। এরপর নিবন্ধন নিয়ে তিন ধাপে—এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ প্রদান করা হয়।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান কায়সার আহম্মেদ জয় বলেন, ‘প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনার ফল।’
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাবেক শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান বলেন, ‘এই সাফল্যের জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সিনিয়রদের সহায়তা এবং সহপাঠীদের সহযোগিতাই আমাদের এই অর্জনের পেছনে কাজ করেছে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিক এই সাফল্যের মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দেশের আইন শিক্ষার অঙ্গনে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
কেকে/ এমএস