ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা কারাবাও কাপের শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ গোলে পরাজিত করে নবমবারের মতো এই ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে পেপ গার্দিওলার দল।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে ফাইনালের শুরু থেকেই ছন্দে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণ গঠনে তারা ছিল অনেক বেশি সংগঠিত। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ রেখে আর্সেনালের রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে সিটি। তবে আর্সেনালের ডিফেন্সও প্রথমার্ধে বেশ দৃঢ়তা দেখায়। ফলে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দলই। গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় ম্যাচ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গতি বাড়ায় ম্যানচেস্টার সিটি। আক্রমণের ধার বাড়াতে উইং ব্যবহার করে দ্রুতগতির ফুটবল খেলতে থাকে তারা। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় সিটি। বক্সের ভেতরে চমৎকার পজিশনিং থেকে বল জালে জড়ান তরুণ ফরোয়ার্ড নিকো ও’রেইলি। এই গোলের মাধ্যমে এগিয়ে যায় গার্দিওলার দল।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্সেনাল। একের পর এক আক্রমণ চালালেও সিটির রক্ষণভাগ ছিল অটুট। গোলরক্ষকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভও দলকে এগিয়ে থাকতে সাহায্য করে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে আবারও আঘাত হানে ম্যানচেস্টার সিটি। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের নিশ্চিতকারী গোলটি করেন ও’রেইলি। তার জোড়া গোলেই ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
এই জয়ের মাধ্যমে লিগ কাপে নবমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ম্যানচেস্টার সিটি, যা এই প্রতিযোগিতায় তাদের আধিপত্যেরই প্রতিফলন। কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে এটি আরেকটি বড় সাফল্য, যা তার কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।
অন্যদিকে, আর্সেনালের জন্য এটি ছিল হতাশার রাত। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিযোগিতায় সাফল্যের খোঁজে থাকা দলটি আবারও শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হলো। ১৯৯৩ সালের পর এখনো লিগ কাপ জয়ের স্বাদ পায়নি তারা।
ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন নিকো ও’রেইলি। তার দুই গোলই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয় এবং দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে যোগ্য দল হিসেবেই ট্রফি জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
কেকে/এলএ