কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিমানটিতে মোট ১২৫ জন আরোহী ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) জানান, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে পুয়ের্ত লিগুইজামোতে, যা আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশে অবস্থিত। এই অঞ্চলটির সীমান্ত রয়েছে পেরু এবং ইকুয়েডরে সঙ্গে।
পুতুমায়োর গভর্নর জন গ্যাবরিয়েল মলিনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কারাকল নোটিসিয়াসকে জানান, এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ২১ জনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল একটি লকহিড মার্টিন সি-১৩০ হারকিউলিস, যা সেনা সদস্যদের পুতুমায়োর আরেকটি শহরে নিয়ে যাচ্ছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বিমানটি উড্ডয়নের মাত্র ১.৫ কিলোমিটার দূরে মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর বিমানে আগুন ধরে যায় এবং এতে বহন করা গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হয়, ফলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। তবে এটি কোনো অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নয় বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর কমান্ডার কারলোস ফারনেন্দো সিলভা জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৭৪টি শয্যাসংবলিত দুটি বিশেষ বিমান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তাদের রাজধানী বোগোতাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কলম্বিয়া প্রথম হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি সংগ্রহ করে ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন মডেল এনে পুরনো বিমানগুলো আধুনিকায়ন করা হয়।
এর আগে গত মাসে বলিভিয়ার এল আল্টো শহরে একই ধরনের একটি হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান বিধ্বস্ত হয়। সে ঘটনায় ২০ জনের বেশি নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।
তবে সর্বশেষ দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
কেকে/এলএ