ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় আটক এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ, সখ্য ও বিভিন্ন অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ মাসুদকে বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আবদুর রউফ জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ সুপার মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৬ মার্চ) রাতে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে পাশের বাঁশগাড়ি গ্রাম থেকে সন্দেহভাজন আলাল মিয়াকে আটক করে ও তার বাড়ি থেকে গরুটি উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর দাবি, আটকের পর আলাল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আলাল মিয়াকে আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন স্থানীয়রা। এতে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এএসআই মোহাম্মদ মাসুদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ফোনের ইমো চ্যাট, ভয়েস মেসেজ ও কল লিস্টে চুরির আগে ও পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলালের কথোপকথনের আলামত মেলে।
ভাইরাল হওয়া এক ভয়েস রেকর্ডে শোনা যায়, চুরিতে যাওয়ার আগে এএসআই মাসুদকে কল দিয়ে আলাল বলছেন, ‘‘চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন।’’
স্থানীয়দের দাবি, আলাল মিয়া আগে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সূত্রেই এএসআই মাসুদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তাকে না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি, এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ‘‘গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ওই সদস্যের সাথে তার যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
কেকে/এসএ