মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নতুন চরচাষী গ্রামে মতবিরোধের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বন্ধুর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে নতুন চরচাষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীর নাম সম্রাট (২৮)। তিনি উপজেলার নতুন চরচাষী গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে আটক অভিযুক্তের নাম তুহিন (২৬)। তিনি একই গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্রাট ও তুহিন বন্ধু এবং একই মহল্লার বাসিন্দা। তারা নিয়মিত একই মসজিদে নামাজ আদায় করতেন। শুক্রবার জুমার নামাজে তুহিন তার জামার নিচে একটি ধারালো ছুরি লুকিয়ে নিয়ে আসেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তুহিন অতর্কিতে সম্রাটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ছুরি দিয়ে তাকে কোপাতে থাকেন।
এ সময় সম্রাটের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তুহিনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গুরুতর আহত সম্রাটকে উদ্ধার করে প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাহসির আহমেদ বলেন, “আহত যুবকের মাথা, গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় আকিদা নিয়ে সম্রাট ও তুহিনের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার কথা-কাটাকাটিও হয়েছে।
তবে আহত সম্রাটের মা রাজিয়া খাতুন বলেন, “আমার ছেলে অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। কেন তুহিন এভাবে অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল, তা আমরা বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।”
এদিকে জনতার হাতে আটক তুহিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি ইচ্ছে করে কাজটি করিনি, আমার ওপর জিনের আছর হয়েছিল।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ঘটনায় অভিযুক্ত তুহিনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কেকে/এলএ