কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জ্বালানি তেল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ।
উপজেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন, ভোগান্তি ও ক্ষোভ। কিন্তু একই সময়ে খোলা বাজারে লিটারপ্রতি ১৫০-১৮০ টাকায় তেল বিক্রির ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—পাম্পে তেল না থাকলে এই তেল আসছে কোথা থেকে?
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকসহ নানা যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। কিছু পাম্পে অল্প সময়ের জন্য তেল সরবরাহ করা হলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক পাম্পে তেল সংকটের কারণে বন্ধ ঘোষণা করে বাঁশের বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে ভরাসার বাজারে পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাইকাররা।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে সহজেই বেশি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক নাজমুল হাসান সুমন বলেন, “পাম্পে গেলে বলা হয় তেল নেই, কিন্তু দোকানে গেলে ১৫০-২০০ টাকায় তেল পাওয়া যায়। যদি পাম্পে তেল না থাকে, তাহলে দোকানদাররা কোথা থেকে তেল পাচ্ছে? এটা স্পষ্ট একটি সিন্ডিকেট।”
ইজিবাইক চালক রিপন একই অভিযোগ তুলে বলেন, “গাড়ি নিয়ে পাম্পে গিয়েও তেল পাই না, অথচ বাজারে ঠিকই দ্বিগুণ দামে পাওয়া যাচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালকদের দাবি, কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সরাসরি গ্রাহকদের না দিয়ে লাইসেন্সবিহীন খুচরা দোকানে সরবরাহ করছে রাতের বেলায়। খোলা দোকানে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাম্প ম্যানেজার জানান, ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
তার দাবি, উপজেলার হাতে গোনা কয়েকটি পাম্প কিছু তেল পেলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—পাম্পে তেল নেই, অথচ কালো বাজারে চড়া দামে তেল মিলছে কীভাবে?
কেকে/এমএ