কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ধোপামুড়ী গ্রামে এক বিধবার ঘরে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার হয়নি। মামলায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা ও আতঙ্কে দিন পার করছেন ভুক্তভোগী নারী। এর ওপর মামলার পলাতক আসামি অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইল ফোনে নিয়মিত হুমকি দেওয়ায় তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভুক্তভোগী কুলসুম আক্তার এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি তার বাড়ির প্রধান দরজার ত্রুটি মেরামতের জন্য একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও কবির হোসেনের ছেলে রাকিব হোসেন কাজ করতে আসে। কাজ শেষে পারিশ্রমিক দেওয়ার সময় তিনি আলমারি খুললে রাকিব ভেতরে টাকা ও চাবির অবস্থান দেখে ফেলে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরে তিনি তাকে বকাঝকা করেন।
এর দুই দিন পর, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে কুলসুমের দেবর জসীম উদ্দিন ঘরের আশপাশে সাদ্দাম ও রাকিবকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই আনুমানিক ১টার দিকে তারা ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়।
কুলসুম আরও জানান, চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, একটি নেকলেস সেট, পাঁচ জোড়া কানের দুল, গলার লকেটসহ দুটি চেইন ও চারটি আংটি—যার পরিমাণ প্রায় ১৩ ভরি। এছাড়া নগদ সাত হাজার টাকাও চুরি হয়। ঘটনার সময় ঘরে কুলসুম আক্তার ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে সামিয়া তাবাসসুম ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। চোরেরা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তারা চিনতে পারলেও ভয়ে আটকাতে পারেননি।
ঘটনার পরের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি মনোহরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হয়। পরে পুলিশ সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তবে অপর অভিযুক্ত মো. রাকিব তখন থেকেই পলাতক রয়েছে। পরবর্তীতে ৭ ফেব্রুয়ারি সাদ্দাম ও রাকিবের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করে চুরির মামলা দায়ের করা হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে সাদ্দামকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রিমান্ডে তাকে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
হতাশ কণ্ঠে কুলসুম আক্তার বলেন, “মামলার একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও অদৃশ্য কারণে মামলার অগ্রগতি ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে কোনো তৎপরতা দেখছি না। চুরি হওয়া গয়নাগুলো আমার বড় মেয়ে ও প্রবাসী জামাতার। এত বড় ক্ষতির পরও পুলিশের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। উল্টো পলাতক আসামি রাকিব অজ্ঞাত স্থান থেকে বিভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে আমাকে হুমকি দিচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে ও পুলিশকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এতে তিনি চরম অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, “মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। আশা করছি, অপর আসামি মো. রাকিবকে গ্রেপ্তার করা গেলেই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন ও মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”
কেকে/এসএ