গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ বছর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছেন।
বিভাগের চারটি ব্যাচ থেকে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৮১ জন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিভাগ হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি ব্যাচ চলমান রয়েছে। পাঠদানে শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রচেষ্টার ফলে বরাবরের মতো এবারও এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই বিভাগ থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় এ পর্যন্ত ৩ জন শিক্ষার্থী সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
গত রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইন পেশা পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশা শুরু করতে তাদের ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১৫-৩০ নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৩-১৪ মার্চ পর্যন্ত বার কাউন্সিল ভবনে এই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফলাফলপ্রাপ্ত নবীন আইনজীবী ও ১৭তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী জজ সাদিকুর রহমান রোমান বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ একদমই নবীন। তবে ইতোমধ্যে এই বিভাগ থেকে ৩ জন বিচারক হয়েছেন। এ বছর বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ৮১ জন নতুন অ্যাডভোকেট হিসেবে এনরোলমেন্ট পেয়েছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমি বর্তমানে ভোলায় সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত রয়েছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমিও এবার এনরোল করেছি। যদিও আমার এখন প্র্যাকটিসে আসার সুযোগ নেই, তবে আমার বিশ্বাস—আমার বন্ধুসহ প্রায় ৮১ জন নবীন আইনজীবী আইন পেশায় সুনাম অর্জন করবেন। আজকের সেরা আইনজীবীদের মধ্যেই আমরা আগামী দিনের বিচারকদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।”
২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নবীন আইনজীবী মো. রিয়াদ আহমেদ বলেন, “অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আমি উচ্ছ্বসিত। পরবর্তী ব্যাচগুলোর জন্য পরামর্শ থাকবে—পড়াশোনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ‘বেয়ার অ্যাক্ট’-কে প্রাধান্য দিতে হবে। শুধুমাত্র গাইড বই বা কোচিংয়ের নোট একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী করতে পারে না।”
আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান মানসুরা খানম বলেন, “অনেক সীমাবদ্ধতা ও নানা সমস্যা পেরিয়ে আমরা আজ এই অবস্থানে এসেছি। এই অভাবনীয় সাফল্যে আমরা গর্বিত। নবীন আইনজীবীদের বিভাগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন বিভাগের অন্যতম বড় অর্জন।”
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান নবীনদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা পেশাগত জীবনে বিশেষ সুনাম অর্জন করবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর আগেও আমাদের শিক্ষার্থীরা জুডিশিয়ারিতে সাফল্য দেখিয়েছে। অনেকে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে। আবার কেউ শিক্ষক হিসেবেও সুনাম কুড়াচ্ছে। পূর্বসূরিদের এই সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।”
কেকে/এসএ