মাগুরায় মিশ্র প্রজাতির মাছের সঙ্গে পাবদা মাছ চাষ করে সফল হচ্ছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা। প্রথমবার চাষ করে সফলতা পাওয়ায় অন্য চাষিরাও এতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে ফলে দিনে দিনে মাগুরায় জনপ্রিয় পাবদা মাছের চাষ। জেলায় মাছের চাহিদা মেটাতে পাবদা চাষ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, মাগুরায় বছরে ২৩ হাজার ২ মেট্রিক টন মাছের চাহিদা রয়েছে। যার বিপরীতে ১৯ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ আমদানি করতে হয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো শালিখা উপজেলায় ৭ একর পুকুরে মিশ্র মাছের সঙ্গে পাবদা চাষ করে ইন্দ্রজিত বিশ্বাস সফল হয়েছেন। এর ফলে পাবদা চাষে অন্যরাও এগিয়ে আসবে এবং তা জেলায় মাছের ঘাটতি কমাবে বলেও আশা করছে মৎস্য অফিস।
মৎস্য চাষি ইন্দ্রজিত বিশ্বাস বলেন, ‘আশপাশের জেলাগুলোতে কয়েক বছর আগে থেকেই সফলভাবে পাবদা মাছ চাষ হচ্ছে। সেখান থেকে আমাদের অধিক দামে কিনতে হয়। প্রথমবারের মতো উপজেলা মৎস্য অফিস ও বেসরকারি সংস্থা এডিআইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ৭ একরের একটি পুকুরে চাষ করেছি। ১০-১২টায় এক কেজি সাইজের হয়েছে।ইতোমধ্যে অনেকেই এখন পাবদা চাষে এগিয়ে আসছে।’
আবদুল গফুর নামে আরেক মৎস্য চাষি বলেন, ‘বড় বড় রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের সঙ্গে পাবদা চাষ আমার কাছে ভালো লেগেছে। এ বছর আমিও পাবদা চাষ করব।’
বেসরকারি সংস্থা এডিআইয়ের মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর আমিন মুকুল বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে মাগুরায় পাবদা চাষের চেষ্টা করছি। কিন্তু এতদিন কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যায়নি। অবশেষে ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের পুকুরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। যা এ অঞ্চলের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত।’
শালিখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘উপজেলায় দিন দিন পাবদা মাছের চাষ বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এ বছর ১০ একররেও বেশি জমিতে পাবদা মাছের চাষ হয়েছে। আগামী বছর এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করছি।’
কেকে/এমএ