কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। ঋতুর পরিবর্তনে ধানগাছগুলোতে ধানের ছড়া বা থোড় বের হতে শুরু করেছে। বাতাসের দোলায় দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন।
লাকসামের কান্দিরপাড়, গোবিন্দপুর, মুদাফফরগঞ্জ ও নরপাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে এখন বোরো ও আমন ধানের চমৎকার আবাদ চোখে পড়ার মতো। মাঠে ধানের এই সতেজ রূপ দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে তৃপ্তির হাসি।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর আবহাওয়ার পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় ধানগাছের বৃদ্ধি ও গঠন বেশ সন্তোষজনক।
মাঠে কর্মরত কয়েকজন কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে ধানের যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে তারা ভীষণ খুশি।
এক কৃষক বলেন, ‘‘সবই উপরওয়ালার ইচ্ছা। এ বছর এখন পর্যন্ত আমাদের এই এলাকায় বড় কোনো তুফান বা শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় ধানের প্রত্যেকটি ফুলের ছড়া বেশ পুষ্ট ও ভরপুর দেখা যাচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে, তবে আমরা আশাবাদী প্রতি গণ্ডায় (স্থানীয় পরিমাপ) ৫-৬ মণ করে ধান ঘরে তুলতে পারব।’’
উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে সারি সারি ধানগাছগুলো এখন নতুন সাজে সজ্জিত।
বিশেষ করে কান্দিরপাড় ও মুদাফফরগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধানের গাছগুলোর সতেজতা আর নতুন ছড়া বের হওয়ার দৃশ্য যে কারোরই নজর কেড়ে নেয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম থাকায় এবং সঠিক সময়ে সেচ ও সারের জোগান নিশ্চিত হওয়ায় এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে কৃষকদের মনে এখন একটাই প্রার্থনা— বাকি কটা দিন যেন আবহাওয়া এমন শান্ত থাকে। শিলাবৃষ্টি বা হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় যেন তাদের এই কষ্টের ফসল নষ্ট না করে দেয়।
মাঠের এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য এখন পুরো লাকসামের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধান পাকার ধুম পড়বে এবং কৃষকরা উৎসবমুখর পরিবেশে সোনালি ফসল ঘরে তুলবেন।
কেকে/এসএ