একসময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে দেশে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন। তবে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় কার্যক্রম আবার সচল হলে রাজনীতিতে পুনরায় অংশগ্রহণ করতে চান।
সম্প্রতি দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকের আলাপে ক্রিকেট ও রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন সাকিব। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘(এখন) যেহেতু দলের কার্যক্রম নেই, তাই ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। দলীয় কার্যক্রম শুরু হলে আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারি।’
রাজনীতি ও ক্রিকেট নিয়ে নিজের ভাবনা ব্যাখ্যা করে সাকিব যোগ করেন, ‘রাজনীতি মৃত্যু পর্যন্ত করা যায়; সময় আছে অনেক। কিন্তু ক্রিকেটের জন্য সময় কম। আগে সেটা ঠিক করতে চাই। রাজনীতি একটা বড় প্ল্যাটফর্ম, এখান থেকে পরিবর্তন আনা যায়। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগবে, সেই আশা এখনও আছে।’
চব্বিশের জুলাইয়ে রাজপথ উত্তাল হওয়ার আগেই দেশ ছেড়েছিলেন সাকিব। এরপর প্রায় দুই বছরে আর দেশে ফেরার সুযোগ হয়নি তার। দেশকে মিস করছেন জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, কেউ যদি নিজের দেশে যেতে না পারে, তাহলে সে দেশকে মিস করবেই। আমিও ব্যতিক্রম নই, আমি দেশকে ভীষণ মিস করি। আশা করি শিগগিরই ফিরতে পারব, আর তখন অবশ্যই খুব ভালো লাগবে।’
দেশে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু–এমন প্রশ্নের আশার বাণী শোনালেন সাকিব, ‘আমি আশাবাদী। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদি দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারি… নাহলে সময় লাগতে পারে। তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত বিষয়গুলো মিটিয়ে ফেলতে। যত দ্রুত এগুলো সমাধান হবে, তত দ্রুত আমি ফিরতে পারব।’
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে যখন রাজপথে ছাত্র-জনতার রক্ত ঝরছিল, তখন সাকিবের নীরবতা দেশের সাধারণ মানুষকে পীড়া দিয়েছে। তাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনেকেই তার ওপর ক্ষোভ উগড়ে যায়। তার দেশে ফেরা ঠেকাতে রাজপথেও নেমে আসেন কেউ কেউ।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকার আসার পর একপ্রকার ‘লাইফলাইন’ পেয়েছেন সাকিব। তার প্রতি নমনীয় নীতির বার্তা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তাই ‘আইনি জটিলতা’ কাটিয়ে আবারও দেশে ফেরার আশায় বুক বাঁধছেন সাকিব।
কেকে/এলএ