রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আয়োজিত প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মধ্য ও প্রাচীন যুগের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।
প্রদর্শনীটি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বহিরাগত দর্শনার্থীরা ভিড় করেন।
প্রত্নপ্রদর্শনীর মধ্যে ছিল সোমপুর বিহার, বন দুর্গ, শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, গৌড় নগরী, রামকেলি মন্দির, ষাট গম্বুজ মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ, কান্তজির মন্দির, স্থল দুর্গ, জল দুর্গ, আনন্দ বিহার, ভাসু বিহার, প্রাচীন আরব নগরী, লালকেল্লা, খাজা শাহবাজ মাজার, খলিফাবাদ নগরী ও মুঘল আমলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্গের প্রতিকৃতি।
এছাড়া মেলায় উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাকও প্রদর্শন করা হয়।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, ‘‘শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই আয়োজন। এখানে প্রত্ননিদর্শন প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা হচ্ছে।’’
প্রদর্শনী দেখতে আসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মো. হারুন-আল-রশিদ বলেন, ‘‘প্রদর্শনীতে এসে আমি অভিভূত। বই-পুস্তকে যেসব ঐতিহাসিক স্থান দেখতাম, এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি যেন সেই সময়ে ফিরে গিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এই বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং এই ধারা অব্যাহত রাখা।’’
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, ‘‘আমরা চাই সকলে যেন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান এবং বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ সম্পর্কে জানতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে এগুলো সম্পর্কে সচেতন হয় এবং তা রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আয়োজন।’’
কেকে/এসএ