সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) এক শিক্ষার্থীকে গায়ে হাত তোলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ‘নীলাচল পরিবহন’-এর পাঁচটি বাস আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (বাইশমাইল) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে বাসগুলো আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।
জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসার উদ্দেশ্যে নীলাচল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি। বাইশমাইল নামতে চাইলে বাসের হেলপার তাকে নির্ধারিত গন্তব্যে নামাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিরিবিলি সংলগ্ন স্ট্যান্ডে নামতে বলেন। এ ঘটনার জেরে শিক্ষার্থী ও বাসের হেল্পারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘‘বাস ভাড়া ও নির্দিষ্ট গন্তব্যে না নামানোর বিষয়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হলে বাসের হেলপার আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে গায়ে হাত তুলে বাইশমাইল এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেন।’’
ঘটনার বিষয়ে নীলাচল পরিবহনের সংশ্লিষ্ট বাসচালকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, গতকাল ধানমন্ডি থেকে ওই শিক্ষার্থী বাসে ওঠেন এবং ভাড়া নিয়ে হেলপারের সাথে তর্কের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীই হেলপারকে টেনে বাইশমাইল স্ট্যান্ডে নামান। পরে অন্য যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাস আটকের ঘটনায় মানিকগঞ্জ বাস-মালিক সমিতির সভাপতি ও নীলাচল পরিবহনের নেতা মহিবুর রহমান শিপন ক্যাম্পাসে এসে বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিয়ে থাকি। শিক্ষার্থীরা অভিযোগের নম্বরে কল দিলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিই। বাসের বেশিরভাগ স্টাফই অসচেতন, তবে তাদেরও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রয়েছে।’’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী অধ্যাপক কনক চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মৌখিক অভিযোগ করেছে এবং শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে বাস আটক করেছে। আমরা সমস্যা সমাধানের জন্য বাস মালিকদের সাথে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’’
কেকে/এসএ