ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রশাসনের আপ্যায়ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার অনেক আগেই বাজেট ফুরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৯২ কোটি ২২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর মধ্যে প্রশাসনের আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ ছিল ১৩ লাখ টাকা। তবে মাত্র ৫ মাসেই এই বরাদ্দ সম্পূর্ণ ব্যয় হয়ে গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে আপ্যায়ন খাতে ব্যয় শুরু করে প্রশাসন। ভিসি অফিস, প্রো-ভিসি অফিস, ট্রেজারার অফিস, প্রক্টর অফিস, ছাত্র উপদেষ্টা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের নামে আপ্যায়ন বিল তোলা হয়। ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৩৭ টাকা, যা বরাদ্দের চেয়ে বেশি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ভিসি অফিসে—৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৯ টাকা। এরপর প্রক্টর অফিসে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৬৬ টাকা এবং ছাত্র উপদেষ্টা অফিসে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩২০ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়া প্রো-ভিসি অফিসে ৩০ হাজার ১৪৬ টাকা এবং ট্রেজারার অফিসে ১৮ হাজার ৭১০ টাকা খরচ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত অল্প সময়ে এ ধরনের ব্যয় একেবারেই অস্বাভাবিক।
তাদের মতে, এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার কিংবা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তারা এ বিষয়ে কঠোর অডিটের ওপর জোর দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আনার পাশা বলেন, নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে থেকেই ব্যয় করা নিয়ম। তিনি জানান, অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও বাস্তবে ব্যয় কমেনি।
কেকে/ এমএস