মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
রাজধানী
আবারও অস্থির মোহাম্মদপুর, বাড়ছে খুন-ছিনতাই ও আতঙ্ক
নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদপুর (ঢাকা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
আসাদুল হক

আসাদুল হক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আবারও বাড়ছে খুন, ছিনতাই, কুপিয়ে জখম, চুরি-ডাকাতি, দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এলাকাটি বারবার অস্থির হয়ে উঠছে। এলাকাটিতে রয়েছে মাদক কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারী। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে দেশিয় অস্ত্র সামুরাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে কঠোর অবস্থানে। গ্রেপ্তার হচ্ছে প্রতিদিন, তারপরও কমছে না অপরাধ। 

২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদপুর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে কিছু দিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সম্প্রতি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকটি অপরাধী চক্র। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী হামলায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।


আহত ও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন এলেক্স ইমন, লম্বু আসাদুল, রাকিব হোসেন বিশাল ও ছাত্র সমন্বয়ক ইব্রাহিম। এছাড়াও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন জুলাই যাদুঘরের ফটোগ্রাফার সাঈদ হাসান তানিম।

বেড়িবাঁধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে আসাদুল হক ওরফে ‘লম্বু আসাদুল’ (২৮) নামে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা। 

পুলিশ জানায়, বেড়িবাঁধের তিনরাস্তা মোড় থেকে হাজারীবাগ যাওয়ার পথে সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় আসাদুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের বুক ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবারের দাবি, আক্তার নামে একজনের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ছিল। তবে পুলিশের তদন্তেই হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে। মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, নিহত আসাদুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি গৌরনদী উপজেলার কালনা এলাকায়। বাবার নাম জলিল সর্দার। তিনি মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকে মা-বাবার সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ছিলেন বলেও জানা গেছে।

চার দিন আগেই খুন হন এলেক্স ইমন

এর চার দিন আগেই কুপিয়ে হত্যা করা হয় এলেক্স ইমন নামে এক যুবককে। গত রোববার (১২ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সামনের এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানায়। ঘটনার পরপর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লম্বু আসাদুল হত্যার ঘটনা ঘটলো।

ছাত্র সমন্বয়ক ইব্রাহিমের ওপর হামলা

গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার ময়ূর ভিলা সংলগ্ন নূর মসজিদের পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন ইব্রাহিম। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। 

স্থানীয়দের দাবি, ইব্রাহিম জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ছাত্র হত্যা মামলার সাক্ষী ছিলেন। তবে ওই ঘটনায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, পরে মৃত্যু

গত ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জহুরী মহল্লার গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে রাকিব হোসেন বিশাল (৩২) নামে যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নাইম (২৩) ও রাজিব (২১) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা

মোহাম্মদপুরে একের পর এক খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত হচ্ছে দেশিয় অস্ত্র। এতে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, হঠাৎ করেই মোহাম্মদপুর এলাকায় খুনখারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। দ্রুত কঠোর অভিযান চালানো না হলে এলাকাটি আবারও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।

তাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান টহল, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ বিষয়ে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ‘গত ৪ দিন আগে যে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই ঘটনায় পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাব সদস্যরা মিলে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। গতকাল রাতের ঘটনায় বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে নামগুলো প্রকাশ করছি না। তবে গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের জানানো হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। পুলিশ ও অন্য বাহিনী কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক কোনো, ছাড় নেই।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অস্থির মোহাম্মদপুর   খুন   ছিনতাই   আতঙ্ক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close