মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
প্রিয় ক্যাম্পাস
অন্য বিভাগের শিক্ষকের সভাপতিত্বে চলছে ইবির ৩ বিভাগ
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৩টি বিভাগে উপযুক্ত ও যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও অন্য বিভাগের শিক্ষককে বিভাগীয় সভাপতির আসনে বসিয়ে চলছে বিভাগের কার্যক্রম। এতে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স মানা হচ্ছে না, তেমনি দিন দিন বাড়ছে বিভাগের অভ্যন্তরীণ সংকট। জটিলতা নিরসনে দ্রুত নিজ বিভাগ থেকেই সভাপতি নিয়োগের দাবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. মিজানুর রহমান, চারুকলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। তবে নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্যেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিন বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন তারা।

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সংশোধিত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, কোনো বিভাগে একাধিক শিক্ষক থাকলে পদমর্যাদা ও চাকরিকালের ভিত্তিতে সিনিয়র শিক্ষককেই সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক হলে বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এছাড়া একই পদমর্যাদার ক্ষেত্রে চাকরিকালের দৈর্ঘ্য বিবেচনা এবং তাতেও সমতা থাকলে নিয়োগের সময় যার নাম আগে এসেছে, তাকে সিনিয়র হিসেবে গণ্য করার নিয়ম আছে অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী।

তবে ইবির এই ৩টি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে একাধিক শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না তারা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উক্ত তিনটি বিভাগের সভাপতি পদে রদবদল আনে প্রশাসন। ওই সময় বিভাগে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মতো কোনো সহকারী অধ্যাপক ছিলেন না। বাধ্য হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসব বিভাগের সভাপতি হিসেবে পদায়ন করা হয়। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক না হওয়া পর্যন্ত অন্য বিভাগের শিক্ষক দিয়ে বিভাগ চালিয়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি বিভাগেই সহকারী অধ্যাপক পদে একাধিক শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া নিয়মানুযায়ী প্রভাষক পদে যোগদানের দিন থেকে চাকরির বয়স ৩ বছর হলে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু অজানা কারণে এসব বিভাগের শিক্ষকদের পদোন্নতিও দীর্ঘদিন আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ফকির এবং ইমতিয়াজ আহমেদ প্রভাষক পদে যোগদান করেছিলেন ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি তাদের যোগদানের ৩ বছর পূর্ণ হলেও তাদের পদোন্নতি হয়নি। পরবর্তীতে অক্টোবরে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকদের পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং সিন্ডিকেটে অনুমোদন হলেও অজানা কারণে শুধু চারুকলা বিভাগের শিক্ষকদের পদোন্নতি বোর্ড আটকে যায়। বারবার প্রশাসনকে অবহিত করার পর অবশেষে এই বছরের ২১ জানুয়ারি পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারি সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় এবং উজ্জ্বল হোসেনের প্রভাষক হিসেবে যোগদানের ৩ বছর পূর্ণ হয় গত বছরের ১২ অক্টোবর। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যায় তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি। প্রায় সাড়ে ৩ মাস পর গত ২৫ জানুয়ারি তাদের পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে সহকারী অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও চারুকলা কিংবা জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের।

আর পদোন্নতি-সংক্রান্ত সমস্যা না থাকলেও বিভাগীয় জটিলতায় আটকে আছে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি পদে রদবদল। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অর্ঘ্য প্রসূন সরকার সভাপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ করার পর পরবর্তীতে থাকা শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটিতে ছিলেন। ফলে যোগ্য শিক্ষক না থাকায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিজানুর রহমান। তবে সম্প্রতি শিক্ষা ছুটি শেষে বিভাগে যোগদান করেছেন সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা ও মিলন কুমার ঘোষ। এর পরপরই নিজ বিভাগ থেকে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগের ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত উক্ত তিন বিভাগের কোনো বিভাগেই নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি পদে নিয়োগ হয়নি।

এদিকে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি না থাকায় বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা না থাকা, বিভাগের প্রয়োজন সম্পর্কে না জানা, শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝতে না পারা, বিভাগে সময় না দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে কাছে না পাওয়া-সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য বিভাগে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করা শিক্ষক হুট করেই তাদের বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হচ্ছে। চারুকলা বিভাগে গত চার বছরে তিনজন সভাপতি এসেছেন। প্রতিবার নতুন নতুন সভাপতিদের সিলেবাস বোঝানো, বিভাগের অবস্থা জানানো, শিক্ষার্থীদের চাহিদা বোঝাতে বোঝাতে দীর্ঘ সময় চলে গেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে তীব্র সেশনজট বিরাজমান।

একই ধরনের অভিযোগ অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রেও। নিজ নিজ বিভাগে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকায় এসব বিভাগে সময় কম দেন বিভাগীয় সভাপতিরা। এতে কোনো প্রয়োজনে বিভাগীয় সভাপতির সুপারিশ বা স্বাক্ষর পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যায়। নিয়মিত বিভাগে না আসায় কিংবা এলেও ব্যস্ততার কারণে অল্প সময় অবস্থান করেই চলে যাওয়ায় বিভাগীয় পরীক্ষা কমিটির কাজ, ফলাফল প্রস্তুতকরণসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়, যা বিভাগের শিক্ষার পরিবেশে প্রভাব ফেলে। স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষকরা সভাপতি পদে থাকলে এসব জটিলতা হতো না বলে মত শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষকরা ইতিপূর্বে ভিসি স্যারের সঙ্গে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তাদের বিষয়টি ভিন্ন। আর অন্য দুই বিভাগের ক্ষেত্রে, গত ৩০ জানুয়ারি সিন্ডিকেটে ওই বিভাগের শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়েছেন। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বিভাগগুলোতে সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি প্রশাসনের আমলে আছে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্বে থাকায় ঈদের ছুটির পর এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম হয়নি। তবে শিগগিরই প্রশাসন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   ইবি   বিভাগ   শিক্ষক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close